যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে আইনি কাঠামো তৈরির দাবি জোরালো হলেও রাজনৈতিক অচলাবস্থায় তা থমকে আছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার এআই প্রযুক্তি নিয়ে উদ্বেগ নাকচ করে একে ‘প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তার মতে, এআই নিয়ন্ত্রণের জন্য কোনো বিশেষ আইনের প্রয়োজন নেই। প্রেসিডেন্টের এমন কঠোর অবস্থানের ফলে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসে নতুন কোনো নিরাপত্তা আইন পাসের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিজসহ বেশ কয়েকজন আইনপ্রণেতা এআই সুরক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা কংগ্রেসে চলমান অবকাশকালীন ছুটির আগে এই বিষয়ে আলোচনার জন্য বিশেষ অধিবেশনের দাবি তুলেছেন। তবে স্পিকার মাইক জনসন এ বিষয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করার ইঙ্গিত দেননি। তিনি জানিয়েছেন, হোয়াইট হাউসে এআই প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈঠকের পর সরকার ও সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর ভূমিকা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
বর্তমানে কংগ্রেসে এআই নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক প্রস্তাব থাকলেও কোনোটিই চূড়ান্ত ঐকমত্য পায়নি। আইনপ্রণেতাদের মধ্যে কেউ কেউ ফেডারেল তদারকি, আবার কেউ এআই মডেলে ‘কিল সুইচ’ বা জরুরি অবস্থায় প্রযুক্তি বন্ধের ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছেন। প্রযুক্তি খাতের অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, সরকারি কোনো নীতিমালা না থাকায় বর্তমানে এআই কোম্পানিগুলো নিজেরাই নিজেদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেডারেল পর্যায়ে কার্যকর আইন পাস করা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত কঠিন। একদিকে প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবন বাধাগ্রস্ত করার ভয়, অন্যদিকে জননিরাপত্তার ঝুঁকি—এই দুইয়ের মাঝে ভারসাম্য বজায় রাখা নিয়ে আইনপ্রণেতাদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন রয়েছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে এআই নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট কোনো ফেডারেল আইন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।