চীনের বেইজিংয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি নিয়ে চলমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে ‘বিদ্বেষপূর্ণ’ এবং ‘হুমকিমূলক বয়ান’ হিসেবে আখ্যায়িত করার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, এআই শাসন প্রক্রিয়া নিয়ে এই ধরনের নেতিবাচক বয়ান ও confrontation বা মুখোমুখি অবস্থানের মানসিকতা কারোরই স্বার্থে নয়। বিশ্বজুড়ে এআই প্রযুক্তির নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রসারের জন্য সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এআই নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা
বিশ্বের শীর্ষ দুই প্রযুক্তি শক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এআই উন্নয়ন নিয়ে সমঝোতা হওয়া অত্যন্ত কঠিন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সিঙ্গাপুরের এস রাজারত্নম স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের সহকারী অধ্যাপক চ্যাং জুন ইয়ান জানান, প্রতিটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তার মূল বিষয়ের সঙ্গে এআই জড়িত থাকায় ধীরগতিতে বা নিরাপদে প্রযুক্তিটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার সরকারের অগ্রাধিকার হলো চীনের চেয়ে দ্রুতগতিতে এআই প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা। অন্যদিকে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এআই প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি নিরাপত্তার ঝুঁকিগুলোর দিকেও নজর দেওয়ার কথা বলেছেন।
ভবিষ্যৎ করণীয়
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যানথ্রোপিকসহ শীর্ষ এআই ল্যাবগুলোর গবেষকরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অনিয়ন্ত্রিত উন্নয়ন মানবজাতির জন্য অস্তিত্বের সংকট তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন। এরই মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন ও চীনের মধ্যে আসন্ন হোয়াইট হাউসের শীর্ষ বৈঠকে এআই ইস্যুটি এজেন্ডা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ও চীনের ভাইস প্রিমিয়ার হে লিফেংয়ের মধ্যেও এ বিষয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। হংকংয়ের ফোরানি ইনভেস্টমেন্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক চ্যান নেভেটের মতে, এআই প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়া মানে কেবল একটি প্রযুক্তিগত দৌড়ে হারা নয়, বরং নতুন শিল্প যুগের কৌশলগত অবকাঠামোর নিয়ন্ত্রণ হারানো।