লিথুয়ানিয়ার কাউনাস শহরের কাছে আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ করা একটি ড্রোন যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে ভূপাতিত করেছে ন্যাটো। দেশটির প্রেসিডেন্ট গিতানাস নৌসেদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র বেলারুশ সীমান্ত থেকে আসা এই ড্রোনটি ধ্বংস করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঘটনার বিবরণ
মঙ্গলবার মধ্যরাতের কিছুক্ষণ পর ড্রোনটি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এ ঘটনার জেরে রাজধানী ভিলনিয়াস ও আশেপাশের অঞ্চলে ড্রোন সতর্কতা জারি করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার বার্তা পাঠানো হয়। লিথুয়ানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ন্যাটোর এয়ার ডিফেন্স মিশনে দায়িত্বরত ইতালীয় পাইলট এবং লিথুয়ানিয়ার সশস্ত্র বাহিনী এই অনুপ্রবেশের ঘটনায় দ্রুত ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেছে।
ড্রোনটির উৎস
লিথুয়ানিয়ার জাতীয় সংকট ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ধ্বংস করা ড্রোনটি কোথা থেকে এসেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। ড্রোনটির উৎস অনুসন্ধানে কাজ চলছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ১৩ সেপ্টেম্বরও লিথুয়ানিয়ার আকাশে অজ্ঞাত বস্তু শনাক্ত হয়েছিল, যা বেলারুশ থেকে প্রবেশ করে রাশিয়ার দিকে চলে গিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আঞ্চলিক পরিস্থিতি
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের শুরু থেকে ইউরোপের দেশগুলোর আকাশসীমায় সামরিক ড্রোনের অনুপ্রবেশ বেড়েছে। পোল্যান্ডও জানিয়েছে, সোমবার রাতে ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার সময় তাদের আকাশসীমায়ও এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে। লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া ও লাটভিয়া ২০০৪ সালে ন্যাটোর সদস্যপদ লাভ করে। ন্যাটোর ধারা ৫ অনুযায়ী, জোটের কোনো সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ চালানো হলে তা পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হয়।