বাংলাদেশের সুন্দরবনে কৃত্রিম পরিবেশে লালন-পালন করা লোনা পানির কুমিরগুলোকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করার পর তারা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিচ্ছে, যা বিজ্ঞানীদের কাছে চমক হিসেবে এসেছে। মারডক বিশ্ববিদ্যালয়ের আচরণগত ইকোলজিস্ট এবং অ্যাডজাঙ্কট অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রু সোমাউইরা জানিয়েছেন, এই কুমিরগুলো তাদের পূর্বের ব্রিডিং সেন্টারে ফিরে যাওয়ার বদলে বন্য পরিবেশেই থিতু হয়েছে। এই ফলাফল বিপন্ন কুমির প্রজাতি পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।
সাধারণত কুমির তার পুরোনো আবাসস্থল চিনে ফেরার অদ্ভুত ক্ষমতার জন্য পরিচিত। তবে বন্দি অবস্থায় দীর্ঘ সময় থাকা কুমিরগুলো ছেড়ে দেওয়ার পর একই আচরণ করবে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের সংশয় ছিল। গবেষণার অংশ হিসেবে বিজ্ঞানীরা স্যাটেলাইট ট্র্যাকিং ডিভাইসের মাধ্যমে পাঁচটি পূর্ণবয়স্ক কুমিরের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। এর মধ্যে তিনটি ছিল দীর্ঘ ৮ থেকে ২২ বছর ধরে বন্দি থাকা কুমির।
ফলাফলে দেখা যায়, বন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়া কুমিরগুলো নতুন পরিবেশে খুব সহজে মানিয়ে নিয়েছে এবং তারা বন্দিশালায় ফিরে যাওয়ার কোনো প্রবণতা দেখায়নি। উল্টোদিকে, দূরবর্তী স্থান থেকে স্থানান্তর করা বন্য কুমিরগুলো নিজেদের আদি ঠিকানায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছিল।
অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর রু সোমাউইরা বলেন, যেসব কুমির এতদিন বন্দি ছিল তারা ছোট ও নির্দিষ্ট এলাকায় ভালোভাবে বসতি গড়েছে। এই তথ্য প্রমাণ করে যে, বড় আকারের বন্দি কুমিরগুলোকে প্রকৃতির বিপন্ন পরিবেশে পুনরায় প্রবর্তনের কৌশলটি বেশ কার্যকর হতে পারে। প্রথাগতভাবে নতুন জন্মানো ছোট ছানাদের চেয়ে পূর্ণবয়স্ক কুমিরগুলোকে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে আনা বেশি সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই গবেষণায় বাংলাদেশ বন বিভাগ, আইইউসিএন বাংলাদেশ এবং ডয়েচে গেসেলশ্যাফট ফুর ইন্টারন্যাশনাল জুমেনআরবাইট (জিআইজেড) সহায়তা করেছে। সুন্দরবনে এখন প্রায় ১৪০টির মতো পূর্ণবয়স্ক লোনা পানির কুমির অবশিষ্ট আছে, যারা মূলত এই ম্যানগ্রোভ বনেই টিকে আছে। বর্তমান এই নতুন তথ্য বিলুপ্তপ্রায় এই প্রাণীর বংশবৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।