চীনের মধ্যস্থতায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনের সম্ভাবনা কতটুকু?

September 16, 2026

চীনের বেইজিংয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বৈঠকে মিলিত হতে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষিতে এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর এটি আরাকচির দ্বিতীয় বেইজিং সফর। এর মাধ্যমে তেহরান ও বেইজিং কূটনৈতিক আলোচনার নতুন পথ খুঁজছে।

বৈঠকের পটভূমি

আগামী সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটনে বৈঠকের কথা রয়েছে। সেই বৈঠকের ঠিক আগমুহূর্তে আরাকচির এই সফর বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। গত মে মাসেও একই ধরনের পরিস্থিতির মধ্যে উভয় দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলোচনা করেছিলেন। চীন নিজেকে নিরপেক্ষ পক্ষ হিসেবে তুলে ধরে যুদ্ধ অবসানের আহ্বান জানিয়ে আসছে।

শান্তি প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা

ব্রিকস সম্মেলনে শি জিনপিং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নিরসনে সদস্য দেশগুলোকে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। তবে চীন আনুষ্ঠানিকভাবে সরাসরি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করার কোনো ঘোষণা দেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, চীন আর্থিক ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা কাটাতে সংঘাতের সমাপ্তি চায়, তবে তৃতীয় পক্ষের কোনো দ্বন্দ্বে গভীরভাবে জড়ানো থেকে তারা বরাবরই বিরত থাকে।

পারমাণবিক ও সামরিক ইস্যু

এই সফরে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা নিয়েও আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের চাপে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ইরানকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। যদিও চীন ও রাশিয়া এর ঘোর বিরোধী। এছাড়া ইরানের ওপর আরোপিত কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং চীন-ইরান সামরিক সহযোগিতার বিষয়টিও আন্তর্জাতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে। চীন বর্তমানে ইরানের অপরিশোধিত তেলের বৃহত্তম ক্রেতা এবং মার্কিন অবরোধ সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় অটল থাকার অঙ্গীকার করেছে।

Leave a Comment