ডেনমার্কের গেডসার উপকূলের কাছে আন্তর্জাতিক জলসীমায় টহলরত ডেনিশ বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারের দিকে রাশিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ থেকে দুটি ইমার্জেন্সি ফ্লেয়ার নিক্ষেপ করা হয়েছে। ডেনমার্কের সশস্ত্র বাহিনী সোমবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিয়মিত ছবি তোলার কার্যক্রম চালানোর সময় হেলিকপ্টারটিকে লক্ষ্য করে এসব ফ্লেয়ার ছোড়া হয়, যার মধ্যে একটি হেলিকপ্টারের খুব কাছ দিয়ে যায়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ডেনমার্ক সরকার রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিনকে তলব করেছে। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন রাশিয়ার এ পদক্ষেপকে ‘বেপরোয়া’ এবং বিভাজন তৈরির চেষ্টা হিসেবে অভিহিত করেছেন। ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন এটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য আচরণ বলে উল্লেখ করেছেন।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভ্লাদিমির বারবিন জানিয়েছেন, মস্কো ঘটনাটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করবে। তবে তিনি পাল্টা অভিযোগ করে বলেছেন, ডেনিশ হেলিকপ্টারগুলো রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি বিপজ্জনক কসরত দেখাচ্ছিল। তার দাবি, রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজের পরিবর্তে ডেনমার্কের দিক থেকেই যোগাযোগের সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেয়েন রাশিয়ার এই আচরণকে বিপজ্জনক ও বেপরোয়া বলে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমার ওপর দিয়ে যাওয়া ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনার সাথে বাল্টিক সাগরের এই ঘটনা রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান উসকানি ও আগ্রাসনেরই একটি অংশ।
এদিকে লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করা একটি ড্রোন ন্যাটো বাহিনীর যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। সোমবার মধ্যরাতের পর বেলারুশ সীমান্ত দিয়ে ড্রোনটি লিথুয়ানিয়ার আকাশসীমায় প্রবেশ করে। এই ড্রোনটি কার বা কোথা থেকে এসেছে তা এখনো নিশ্চিত নয়। পোল্যান্ডও জানিয়েছে, ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার প্রেক্ষাপটে সোমবার রাতে তাদের আকাশসীমায় বিশেষ বিমান তৎপরতা চালানো হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের আবহে বাল্টিক অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত উত্তপ্ত অবস্থায় রয়েছে।