সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের গবেষকরা জানিয়েছেন, আলঝেইমার এবং অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত রোগীদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা কমে যাওয়ার গতি নতুন ধরনের ব্লাড থিনার বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ (NOACs) গ্রহণের মাধ্যমে ধীর করা সম্ভব। ইউরোপীয় হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি রোগীদের চিকিৎসার নতুন পথ উন্মোচন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
গবেষণাটি পরিচালনা করেন ক্যারোলিনস্কা ইনস্টিটিউটের নিউরোবায়োলজি, কেয়ার সায়েন্সেস অ্যান্ড সোসাইটি বিভাগের অধ্যাপক মারিয়া এরিকসডটার। তিনি জানান, এই ওষুধগুলো মস্তিষ্কে রক্ত সঞ্চালন উন্নত করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র ক্ষত কমাতে ভূমিকা রাখে, যা শেষ পর্যন্ত রোগীর স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তির সুরক্ষায় কাজ করে।
গবেষণার পদ্ধতি ও ফলাফল
গবেষক দল সুইডেনের জাতীয় স্বাস্থ্য রেজিস্ট্রি ‘সভেডেম’ (SveDem)-এর তথ্য ব্যবহার করে আলঝেইমার ও অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে আক্রান্ত ৭,৩০৮ জন রোগীর ওপর বিশ্লেষণ চালিয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের তিনটি দলে ভাগ করে পর্যবেক্ষণ করা হয়: একটি দল নতুন ধরনের ওষুধ (NOACs) গ্রহণকারী, দ্বিতীয় দল প্রচলিত ওয়ারফারিন গ্রহণকারী এবং তৃতীয় দলটি কোনো রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করেনি।
মিনি-মেন্টাল স্টেট এক্সামিনেশন (MMSE) পদ্ধতির মাধ্যমে সময়ভেদে রোগীদের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তির পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা গেছে, যারা নতুন ব্লাড থিনার (NOACs) গ্রহণ করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে অন্যদের তুলনায় জ্ঞানীয় বা মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাসের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর ছিল।
অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা
গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন ব্লাড থিনার ব্যবহারকারীরা কেবল মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ক্ষেত্রেই নয়, বরং স্ট্রোক, রক্ত জমাট বাঁধা, হাড় ভাঙা এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর ক্ষেত্রেও সুবিধা পেয়েছেন। প্রচলিত ওষুধ ওয়ারফারিন গ্রহণকারী রোগীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর ঝুঁকি কমলেও বড় ধরনের রক্তপাতের উচ্চ ঝুঁকি দেখা গেছে।
তবে গবেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এটি একটি পর্যবেক্ষণমূলক গবেষণা। তাই সরাসরি এই ওষুধের কারণেই জ্ঞানীয় অবক্ষয় কমেছে কিনা, তা নিশ্চিতভাবে বলার আগে আরও বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ওষুধ পরিবর্তনের সম্ভাবনা এবং অন্যান্য অজানা প্রভাবকগুলোও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা উল্লেখ করেছেন।