যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গীত জগতে এআই মিউজিক জেনারেটর সুনোর নতুন মডেল নিয়ে নতুন করে আইনি বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সনি মিউজিক এন্টারটেইনমেন্ট এবং ইউনিভার্সাল মিউজিক গ্রুপ (ইউএমজি) অভিযোগ তুলেছে যে, সুনোর নতুন ভি৬ মডেলগুলো তাদের কপিরাইট আইন লঙ্ঘন করছে। এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি এআই প্রশিক্ষণের জন্য তথ্যের উৎস এবং কপিরাইটযুক্ত কনটেন্টের ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে বড় ধরনের আইনি প্রশ্ন তুলে ধরেছে।
অভিযোগের ভিত্তি
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনো ওয়ার্নার মিউজিক গ্রুপ ও বিএমজি-র সঙ্গে লাইসেন্সিং চুক্তি করলেও, তাদের ভি৬ মডেলে লাইসেন্সবিহীন গান ব্যবহার করেছে। সনি ও ইউএমজি-র দাবি, সুনো তাদের প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারীদের ‘ইন্টারঅ্যাকশন’ বা মিথস্ক্রিয়াকে প্রশিক্ষণের কাজে লাগিয়েছে। তাদের মতে, এর অর্থ হলো আগের মডেলগুলোর আউটপুট এবং পছন্দ-অপছন্দের সংকেত ব্যবহার করা হয়েছে, যা মূলত অনুমোদনহীনভাবে রেকর্ডকৃত গান থেকে তৈরি। এই যুক্তিতে অন্তত ৬০ হাজার ২০২টি সাউন্ড রেকর্ডিংয়ের কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে। মার্কিন আইন অনুযায়ী এতে প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানার ঝুঁকি রয়েছে।
সুনোর অবস্থান
সুনো কর্তৃপক্ষ এই অভিযোগকে আইন ও তথ্যের দিক থেকে ত্রুটিপূর্ণ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের দাবি, সুনো মানুষকে নতুন সঙ্গীত তৈরির সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে। ভি৬ মডেল তৈরির ক্ষেত্রে তারা পার্টনারদের লাইসেন্স করা কনটেন্ট, ব্যবহারকারীদের মিথস্ক্রিয়া এবং তাদের নিজস্ব টিমের সংগৃহীত জ্ঞান ব্যবহার করেছে। এআই এবং সঙ্গীত শিল্পের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক ভবিষ্যতের ওপরই তারা জোর দিচ্ছে।
পূর্বের বিতর্ক
এই নতুন মামলাটি সনি, ইউএমজি এবং ডব্লিউএমজি-র করা আগের মামলার ধারাবাহিকতা মাত্র। এর আগে জুলাই ২০২৬ সালে সুনোর ডাটা হ্যাক হওয়ার ঘটনায় দেখা গিয়েছিল যে, কোম্পানিটি ইউটিউব মিউজিক, ডিজার এবং জেনিয়াসের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে মিলিয়ন মিলিয়ন গান ও লিরিক্স অনুমতি ছাড়াই সংগ্রহ করেছিল। সুনো অবশ্য বরাবরই দাবি করে আসছে যে, এআই প্রশিক্ষণের জন্য গান ব্যবহার করা ‘ফেয়ার ইউজ’ বা ন্যায্য ব্যবহারের আওতাভুক্ত। তবে আদালত যদি রেকর্ড লেবেলগুলোর যুক্তি গ্রহণ করে, তবে সুনোর বর্তমান ব্যবসায়িক মডেল বড় ধরনের আইনি সংকটে পড়তে পারে।