যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে অবস্থিত নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের পরিচালক জেমি ডান জানিয়েছেন, ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপটি তার মূল পরিকল্পনার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি সময় ধরে মহাজাগতিক গবেষণায় অবদান রাখতে পারবে। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা, সফল উৎক্ষেপণ এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের ফলে টেলিস্কোপটি কমপক্ষে ২২ বছর সচল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেলিস্কোপটির মূল পরিকল্পনা ছিল ১০ বছরের জন্য, যার মধ্যে পাঁচ বছর ছিল প্রাথমিক এবং পাঁচ বছর বর্ধিত মিশন। মহাকাশযানের মিশনের আয়ু মূলত নির্ভর করে তার জ্বালানির ওপর। রোমান টেলিস্কোপের প্রথম দফার গতিপথ সংশোধনের সময় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম জ্বালানি খরচ হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট টেলিস্কোপটি তার কক্ষপথের দিকে যাত্রার প্রথম ধাপটি সম্পন্ন করে। এতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৯৯ শতাংশ নিখুঁত পারফরম্যান্স পাওয়া গেছে এবং পরিকল্পনার চেয়ে প্রায় ১৮ গুণ কম জ্বালানি খরচ হয়েছে। এই সাশ্রয় থেকেই অতিরিক্ত চার বছর মিশন পরিচালনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
উৎক্ষেপণের সময় বাড়তি জ্বালানি বহন করা এবং মহাকাশযানটির ওজন প্রত্যাশার চেয়ে কম হওয়া মিশনটির আয়ু বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। প্রকৌশলীরা সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮০০ কেজি ওজনের হিসাব করে জ্বালানি নির্ধারণ করেছিলেন, কিন্তু উৎক্ষেপণের সময় টেলিস্কোপটির প্রকৃত ওজন ছিল ৮ হাজার ৫৬ কেজি। কম ওজনের কারণে এটি মূল ১০ বছরের মিশনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির পাশাপাশি অতিরিক্ত জ্বালানি নিয়ে যাত্রা শুরু করতে পেরেছে।
আগামী দিনগুলোতে দ্বিতীয় দফার গতিপথ সংশোধন এবং কক্ষপথে স্থাপনের সময়ও জ্বালানি সাশ্রয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। এই প্রক্রিয়াগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হলে টেলিস্কোপটি আরও চার বছর বাড়তি সময় মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত থাকতে পারবে। মহাকাশে এল২ (L2) পয়েন্টে স্থায়ী কক্ষপথে পৌঁছানোর পর প্রতি ২৮ দিন অন্তর একবার করে স্টেশন-কিপিং বার্নের প্রয়োজন হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে টেলিস্কোপটির কার্যকারিতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।