যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার লুনার রিকনসাঁ অবরবিটার (এলআরও) চাঁদের পৃষ্ঠে ৭২৮ ফুট চওড়া একটি নতুন গর্ত শনাক্ত করেছে। সংস্থার বিজ্ঞানী রবার্ট ওয়াগনার জানান, ২০২৪ সালে কোনো এক সময় এই গর্তটি তৈরি হয়েছে। সৌরজগতে এ পর্যন্ত যত নতুন গর্ত আবিষ্কৃত হয়েছে, তার মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়।
চাঁদের পূর্বাঞ্চলে এই গর্তটি তৈরি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন ‘ম্যাকগেচিন’। ধারণা করা হচ্ছে, তিন থেকে ছয়তলা ভবনের সমান বড় কোনো গ্রহাণু বা ধূমকেতু চাঁদের বুকে আঘাত করলে এই গর্তের সৃষ্টি হয়। ১৪১ ফুট গভীর এই গর্তটি আয়তনে দুটি ফুটবল মাঠের সমান। বিজ্ঞানীদের মতে, চাঁদের মতো পরিবেশে এমন বিশাল গর্ত সাধারণত প্রতি শতাব্দীতে একবার বা তার চেয়ে কম সময় পর পর তৈরি হয়।
নাসার গবেষক রবার্ট ওয়াগনার জানান, নিয়মিত তথ্য পর্যালোচনার সময় হঠাৎ এই গর্তটি তার চোখে পড়ে। এলআরও মহাকাশযানটির তোলা পুরনো ও নতুন ছবির তুলনা করে দেখা যায়, আগে সেখানে কোনো গর্ত ছিল না। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
গর্তটির চারপাশে প্রায় চার মাইল এলাকাজুড়ে একটি ‘কোল্ড জোন’ বা শীতল এলাকা তৈরি হয়েছে। এই এলাকার তাপমাত্রা আশেপাশের সাধারণ অঞ্চলের চেয়ে ১৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট কম। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাজাগতিক সংঘর্ষের ফলে চন্দ্রপৃষ্ঠের উপাদানের ঘনত্ব ও গঠন বদলে যাওয়ায় এমন শীতল এলাকার সৃষ্টি হয়েছে।
চাঁদে বায়ুমণ্ডল না থাকায় ছোট-বড় মহাজাগতিক বস্তু অনায়াসেই পৃষ্ঠে আঘাত করতে পারে। গত ১৭ বছরে এলআরও প্রায় ১,০০০টির মতো নতুন গর্ত শনাক্ত করেছে। ভবিষ্যতে চাঁদে মানব অভিযানের ক্ষেত্রে এই ধরনের ভূ-তাত্ত্বিক পরিবর্তনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন গবেষকরা।