যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কমিউনিকেশনস কমিশন (এফসিসি) ওয়াশিংটনে এক ঘোষণায় জানিয়েছে, প্যারামাউন্ট ও ওয়ার্নার ব্রস.-এর একীভূতকরণে বিদেশি রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তহবিলগুলোকে ৪৯ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত শেয়ারের মালিক হওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী বিদেশি বিনিয়োগের সীমা ২৫ শতাংশে সীমাবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও এফসিসি তা শিথিল করেছে।
প্যারামাউন্ট বর্তমানে ২৮টি টিভি স্টেশনের মালিক হওয়ায় তারা গণমাধ্যম সংক্রান্ত নিয়মের আওতায় পড়ে। এফসিসির নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে সৌদি আরব, কাতার ও আবুধাবির তিনটি রাষ্ট্রীয় ওয়েলথ ফান্ড কোম্পানিটির মালিকানার প্রায় অর্ধেক নিজেদের দখলে নিতে পারবে। তবে কমিশন জানিয়েছে, এসব তহবিলের মালিকানায় থাকা শেয়ারের বিপরীতে কোনো ভোটিং ক্ষমতা থাকবে না, ফলে তারা কোম্পানি পরিচালনায় সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ‘ফ্রি প্রেস’ এবং ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অনেক সদস্য। তাদের মতে, কোনো বিদেশি সরকারের হাতে মার্কিন গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রণ থাকা দেশের জন্য উদ্বেগজনক। এফসিসির একমাত্র ডেমোক্র্যাট সদস্য আনা গোমেজ বলেছেন, বিশ্বের অন্যতম নিপীড়নমূলক কিছু সরকারের হাতে মার্কিন গণমাধ্যমের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো, যা সংবাদের বিষয়বস্তুকে প্রভাবিত করতে পারে।
এফসিসি শুরুতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মালিকানার অনুমতি চেয়ে করা আবেদন গ্রহণ করলেও পরে জানিয়েছে, ভোটিং ক্ষমতার জন্য কোম্পানিকে পুনরায় অনুমতি নিতে হবে। এদিকে, ক্যালিফোর্নিয়াসহ ১১টি অঙ্গরাজ্য এই একীভূতকরণ প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে অ্যান্টি-ট্রাস্ট মামলা করেছে, যার বিচার কার্যক্রম আগামী মার্চ মাসে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।