মৃত্যুকে ফাঁকি দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু পুনর্গঠনকারী কোষের সন্ধান

September 19, 2026

ইসরায়েলের ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের গবেষকরা এমন এক বিশেষ কোষের সন্ধান পেয়েছেন, যা প্রোগ্রামড সেল ডেথ বা কোষের আত্মহনন প্রক্রিয়া শুরুর পরও টিকে থাকতে সক্ষম। এই কোষগুলো পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু দ্রুত পুনর্গঠনে মূল ভূমিকা পালন করে। গবেষক দলের মতে, এই আবিষ্কারটি সুস্থ টিস্যু পুনরুদ্ধারের নতুন উপায় বের করার পাশাপাশি ক্যানসার চিকিৎসার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীরা দীর্ঘ সময় ধরে জানতেন যে, শরীরের ত্বক বা অঙ্গপ্রত্যঙ্গের এপিথেলিয়াল স্তর মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে। যাকে ‘কম্পেনসেটরি প্রলিফারেশন’ বলা হয়। তবে এই প্রক্রিয়াটি কীভাবে কাজ করে, তা এতদিন রহস্য ছিল। নেচার কমিউনিকেশনস জার্নালে প্রকাশিত নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাসপেস নামক এক বিশেষ এনজাইম এই প্রক্রিয়ায় বিস্ময়কর ভূমিকা রাখে। এই এনজাইম সাধারণত কোষ ধ্বংস করতে পরিচিত হলেও, এটি নির্দিষ্ট কিছু কোষকে মৃত্যু থেকে বাঁচিয়ে টিকে থাকতে সাহায্য করে।

গবেষকরা ফ্রুট ফ্লাইয়ের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ডিএআরই (DARE) নামক কোষের এই বিশেষ বৈশিষ্ট্য শনাক্ত করেছেন। এসব কোষ বিকিরণের মুখে পড়েও ধ্বংস না হয়ে বরং বংশবিস্তার করে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুর প্রায় অর্ধেক পুনর্গঠন করেছে। তবে একই সাথে বিজ্ঞানীরা এনএআরই (NARE) নামে আরেকটি কোষের দল খুঁজে পেয়েছেন, যারা ডিএআরই কোষের সাথে মিলে ভারসাম্য রক্ষা করে এবং অতিরিক্ত কোষ বৃদ্ধি রোধ করে।

এই আবিষ্কারের একটি বড় দিক হলো ক্যানসার চিকিৎসার সাথে এর সম্পর্ক। বিজ্ঞানীরা লক্ষ্য করেছেন, ক্যানসার কোষগুলো সম্ভবত এই বেঁচে থাকার কৌশলটি ব্যবহার করে চিকিৎসা থেকে রক্ষা পায়। এমনকি একবার বিকিরণের পর বেঁচে যাওয়া কোষগুলো তাদের পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে টিকে থাকার উচ্চ সক্ষমতা বজায় রাখে, যা ক্যানসারের পুনরাবৃত্তিকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক এলি আরামার মতে, এই প্রক্রিয়াটি বোঝা গেলে সুস্থ টিস্যু দ্রুত পুনর্গঠনের উপায় বের করা যেমন সহজ হবে, তেমনি ক্যানসার চিকিৎসায় ব্যর্থতার কারণগুলো দূর করা সম্ভব হবে। এখন তাদের লক্ষ্য হলো, এই জৈবিক প্রক্রিয়াটি মানুষের ক্ষেত্রে কীভাবে কাজ করে তা বিশদভাবে পর্যবেক্ষণ করা।

Leave a Comment