যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি নিয়ে নতুন এক পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দেশটিতে একটি বিশেষ এআই বাহিনী গঠনের পাশাপাশি এই খাতের কার্যক্রম তদারকির জন্য একজন এআই জার বা প্রধান নিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ট্রাম্প মূলত মার্কিন এআই শিল্পের উন্নয়নে গতি সঞ্চার করতে চান, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তার প্রশাসন এআই খাতের বিকাশে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করবে না। তিনি প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ধীর করার আহ্বানকে প্রত্যাখান করেছেন। তার মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরবর্তী শিল্প বিপ্লবের সমান বা তার চেয়েও বড় ভূমিকা রাখবে এবং এটি যুক্তরাষ্ট্রের জিডিপির ২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।
চীনের সঙ্গে এআই প্রযুক্তি নিয়ে চলমান বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে রাখাই তার মূল লক্ষ্য। আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে এআই নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, এআই নিয়ে যেসব ঝুঁকির কথা বলা হচ্ছে তা মূলত প্রতারণা বা ভুয়া। তবে তিনি এআই ব্যবহার করে কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হলে বিদ্যমান বিচার ব্যবস্থার মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন।
বর্তমানে ওপেনএআই, গুগল এবং অ্যানথ্রপিকসহ বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত এআই সিস্টেম তৈরির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তবে গবেষকদের অনেকে সতর্ক করেছেন যে, এই প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রনহীন বিকাশ মানবতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি শিল্পে কঠোর নিয়ম এবং স্বতন্ত্র পর্যবেক্ষণের দাবি তুলেছেন অনেকে। ট্রাম্পের এই নতুন পরিকল্পনা প্রযুক্তি খাতের বিতর্কিত সুরক্ষা নীতিমালা নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।