ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা: কী প্রভাব পড়বে?

September 19, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন ইউরোপ থেকে বিপুল সংখ্যক সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা করছে। ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ইরান যুদ্ধের জন্য মার্কিন বাহিনীকে তাদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর পেন্টাগন এই পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে বলে জানা গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি এক-তৃতীয়াংশ কমানোর প্রস্তাব যাচাই করছেন, যা ইউরোপের নিরাপত্তা কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কেন এই পর্যালোচনা

ইউরোপে মার্কিন সেনা ও সামরিক সরঞ্জাম কমানোর বিষয়টি মূলত একটি সামরিক পর্যালোচনার অংশ। চলতি বছরের জুন মাসে ব্রাসেলসে ন্যাটোর এক বৈঠকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইউরোপীয় মিত্রদের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, ইউরোপকে এখন নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব নিজেরাই নিতে হবে। ইরান যুদ্ধের ক্ষেত্রে ইউরোপীয় মিত্রদের অসহযোগিতাকে তিনি লজ্জাজনক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন সেনাদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

কী কী বিকল্প রয়েছে

পেন্টাগনের হাতে থাকা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ইউরোপে বর্তমানে মোতায়েন থাকা ৬৮ হাজার মার্কিন সেনার এক-তৃতীয়াংশ প্রত্যাহার করা। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে জার্মানি, ইতালি ও স্পেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনারা সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবে। আরও কঠোর একটি বিকল্প হিসেবে ৪০ হাজার সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি যুদ্ধবিমান, রণতরি ও অস্ত্রশস্ত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া পশ্চিম ইউরোপ থেকে সেনাদের সরিয়ে ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমানায় রাশিয়ার কাছাকাছি মোতায়েন করার চিন্তাও করা হচ্ছে। আগামী ৬ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

সম্পর্কের অবনতির কারণ

ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন নয়। প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় থেকেই ন্যাটো সদস্যদের প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর চাপ দিয়ে আসছে ওয়াশিংটন। বর্তমানে এই সম্পর্কের অবনতির পেছনে ইরান যুদ্ধ ছাড়াও বাণিজ্য ও গ্রিনল্যান্ড ইস্যু বড় ভূমিকা রেখেছে। ইউরোপীয় দেশগুলো ইরান যুদ্ধে নিজেদের বিমানঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় এবং ট্রাম্পের বাণিজ্য শুল্ক আরোপের মতো পদক্ষেপগুলো দুই পক্ষের দূরত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া

বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হলে তা মহাদেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে পারে। যদিও ইউরোপীয় দেশগুলো দ্রুত সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে, তবুও মার্কিন এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার মতো দেশগুলো বাড়তি সুবিধা পেতে পারে। মার্কিন সিনেটর রজার উইকার এবং প্রতিনিধি মাইক রজার্সসহ অনেক নীতিনির্ধারক উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে ভুল বার্তা পাঠাতে পারে।

Leave a Comment