ইবোলার বিরল ও প্রাণঘাতী ধরন বুন্দিবুগিও ভাইরাসের প্রকোপ বাড়ছে

September 20, 2026

গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র (ডিআরসি) ও উগান্ডায় ইবোলা গোত্রীয় বিরল বুন্দিবুগিও ভাইরাসের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় বোস্টন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ন্যান্সি সুলিভান সতর্ক করে বলেছেন, পরিচিত রোগের বাইরেও যেসব প্রাণঘাতী ভাইরাস রয়েছে, সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি না থাকলে বিশ্ব বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়বে।

ফিলো-ভাইরাস পরিবারের সদস্য বুন্দিবুগিও এর আগে ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং ২০১২ সালে ডিআরসিতে ছড়িয়েছিল। তবে বর্তমান প্রাদুর্ভাব আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ১১ জুন পর্যন্ত এই দুই দেশে ৬৯৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং ১৩৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন নার্সের মৃত্যুর পরই মূলত এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শনাক্ত হয়।

বুন্দিবুগিও ভাইরাস মারাত্মক হেমোরেজিক ফিভার বা রক্তক্ষরা জ্বরের সৃষ্টি করে। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রক্তনালীর কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে পড়ে। ভাইরাসটি সরাসরি শারীরিক তরলের সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়, যা চিকিৎসা কর্মী ও পরিবারের সদস্যদের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ।

অধ্যাপক সুলিভানের মতে, এই ভাইরাস শনাক্তকরণ ও নিয়ন্ত্রণের প্রধান বাধা হলো ল্যাবরেটরি সুবিধার অভাব। অনেক ক্ষেত্রে নমুনা পরীক্ষার জন্য অনেক দূর যেতে হয়, যা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিলম্ব ঘটায়। ম্যালেরিয়া বা টাইফয়েডের সাথে এর উপসর্গের মিল থাকায় ল্যাব পরীক্ষার আগে সঠিক রোগ নির্ণয় করাও কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমানে ইবোলা বা মারবার্গ ভাইরাসের জন্য টিকা বা চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও বুন্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য অনুমোদিত কোনো টিকা বা সুনির্দিষ্ট চিকিৎসাপদ্ধতি নেই। অধ্যাপক সুলিভান জোর দিয়ে বলেছেন, কেবল পরিচিত রোগের দিকে নজর না দিয়ে ভবিষ্যতে যেসব ভাইরাস মহামারি ঘটাতে পারে, সেগুলোর প্রস্তুতি ও আন্তর্জাতিক সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

Leave a Comment