যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ডে নিরাপত্তা ও ভূ-রাজনীতি নিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে নতুন একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির ফলে দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলে আসা উত্তেজনা প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সমর্থকদের কাছে একে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন, যা তার রাজনৈতিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সহায়তা করবে। এই চুক্তিটি গ্রিনল্যান্ডের আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চুক্তির মূল বিষয়বস্তু
চুক্তির বিস্তারিত এখনো পুরোপুরি প্রকাশ করা হয়নি। তবে ১৯ সেপ্টেম্বর ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, এই চুক্তির মেয়াদ হবে অনির্দিষ্টকাল। এছাড়া গ্রিনল্যান্ডে কোনো প্রতিপক্ষ দেশ যেন সামরিক উপস্থিতি বা স্পর্শকাতর বিনিয়োগ করতে না পারে, তার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক ভেটো ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর আগে ২০১৬ ও ২০১৮ সালে ডেনমার্কের মধ্যস্থতায় গ্রিনল্যান্ডে চীনা বিনিয়োগের প্রস্তাব বাতিল করা হয়েছিল, যা এখন সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে এল।
বাস্তবতা ও সংশয়
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন চুক্তির অনেক কিছুই ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তিতেই বিদ্যমান ছিল। বর্তমানের পিটুফিক স্পেস বেস ছাড়াও অতীতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বড় সামরিক উপস্থিতি ছিল। তাই নতুন চুক্তিটি মূলত দৃশ্যপট তৈরির একটি কৌশল হতে পারে, যাতে ট্রাম্প বিজয় দাবি করতে পারেন। এছাড়া ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিরা চুক্তির মাধ্যমে নিজেদের সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ
ট্রাম্প দাবি করেছেন, এই চুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো খরচ হবে না। তবে এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অতীতে মেক্সিকো সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ বা অন্যান্য প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের হিসাব নিয়ে বিতর্ক ছিল। গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়লে তার অর্থনৈতিক প্রভাব কেমন হবে, তা নিয়ে কোপেনহেগেন ও নুকের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশের পরই এর চূড়ান্ত ফলাফল বোঝা সম্ভব হবে।