কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশলীরা নতুন ধরনের ডাই-সেনসিটাইজড ন্যানোপার্টিক্যাল উদ্ভাবন করেছেন। এই ন্যানোপার্টিক্যাল অতি সূক্ষ্ম মাত্রার রাসায়নিক উপাদান শনাক্ত করার পাশাপাশি দেখতে প্রায় একই রকম অণুগুলোর মধ্যে পার্থক্য করতে সক্ষম। গবেষণাপত্রটির জ্যেষ্ঠ লেখক অধ্যাপক কাই হুয়াং জানান, এই প্রযুক্তি ওষুধ তৈরিতে ভেজাল শনাক্তকরণ এবং ভূগর্ভস্থ পানির দূষণ পরিমাপের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা সম্ভব।
এই ন্যানোপার্টিক্যালগুলো মূলত একটি বিশেষ আলোক সংকেত তৈরির মাধ্যমে কাজ করে। যখন এগুলো কোনো নির্দিষ্ট রাসায়নিকের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সেগুলো স্বল্প শক্তির ফোটন শোষণ করে এবং উচ্চ শক্তির উজ্জ্বল সবুজ আলো বিকিরণ করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় আপকনভার্সন। এর ফলে গবেষকরা খুব সহজেই নমুনা থেকে কাঙ্ক্ষিত সংকেতটি আলাদা করতে পারেন, কারণ এই আলো সাধারণ ব্যাকগ্রাউন্ড আলোর চেয়ে ভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির হয়।
এর উজ্জ্বলতা বৃদ্ধির জন্য গবেষকরা ন্যানোপার্টিক্যালের কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছেন। আগে এই কণাগুলো সমতল ষড়ভুজাকৃতির হলেও এবার সেগুলোকে ত্রিমাত্রিক হীরা আকৃতির করা হয়েছে। লিতিয়াম, লুটেসিয়াম ও ফ্লোরিন দিয়ে তৈরি নতুন এই মডেলে ইয়টারবিয়াম আয়নগুলো এমনভাবে বিন্যস্ত, যা আলোর শক্তিকে একমুখী পথে ভেতরে প্রবাহিত করে। কম্পিউটার মডেলিংয়ের মাধ্যমে এই নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা আগের যেকোনো ন্যানোপার্টিক্যালের তুলনায় প্রায় ১৫০ গুণ বেশি উজ্জ্বল সংকেত তৈরি করতে সক্ষম।
অধ্যাপক হুয়াংয়ের মতে, এই ন্যানোপার্টিক্যালগুলো সাধারণ ও সস্তা লেজার ব্যবহার করে পরীক্ষা করা যায়। বর্তমানে এটি পরীক্ষামূলক পর্যায়ে থাকলেও, বড় পরিসরে উৎপাদনের জন্য কাজ চলছে। বাণিজ্যিকভাবে সফল হলে ওষুধ শিল্পে ভেজাল শনাক্তকরণ এবং পরিবেশগত পর্যবেক্ষণে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে বলে আশা করছেন গবেষকরা।