ইরানের রাজধানী তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের প্রভাবে দেশটির অর্থনীতিতে ভয়াবহ মন্দা দেখা দিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যান কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, পারস্য ক্যালেন্ডারের প্রথম তিন মাসে (২১ মার্চ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত) ইরানের জিডিপি ১০ দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। দেশটির নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির ওপর এই যুদ্ধের প্রভাব কতটা গভীর, তা এই তথ্যে ফুটে উঠেছে।
অর্থনৈতিক বিপর্যয়
ইরানের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের খাত তেল ও গ্যাস শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি তথ্যমতে, এই খাতে উৎপাদন ও সরবরাহ আগের বছরের তুলনায় ২৬ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর বাইরে শিল্প ও খনি খাতে ১৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ সংকোচন ঘটেছে। তবে কৃষিখাত ২ দশমিক ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
চরম মুদ্রাস্ফীতি ও বাণিজ্য বাধা
অর্থনৈতিক এই সংকটের পাশাপাশি ইরানে মুদ্রাস্ফীতির হার ৬৯ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে ইরানের মুদ্রা রিয়ালের মান ব্যাপকভাবে কমেছে। এক বছর আগে যেখানে এক ডলারের বিনিময় মূল্য ছিল ১০ লাখ রিয়াল, সেপ্টেম্বরের শুরুতে তা বেড়ে ২২ লাখ রিয়াল ছাড়িয়েছে। মার্কিন নৌ-অবরোধের কারণে ইরানি অপরিশোধিত তেল রপ্তানিও আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে। মার্চ মাসে দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি হলেও জুলাই মাসে তা নেমে আসে ৭ লাখ ৪০ হাজারে এবং আগস্টে তা ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৫৫ হাজার ব্যারেলে ঠেকেছে।
কূটনৈতিক তৎপরতা
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে ইরান এখন কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজছে। ইরানের নিরাপত্তা প্রধান মোহসেন রেজায়ি আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন, তারা কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে যুদ্ধ অবসানের শর্তাবলি তুলে ধরেছেন। এর মধ্যে রয়েছে জব্দকৃত তহবিল মুক্তি এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের অর্থনৈতিক এই বিপর্যয়ের বিপরীতে উভয় পক্ষই এখন আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের উপায় খুঁজছে।