যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং চীনের উপ-প্রধানমন্ত্রী হি লিফেংয়ের মধ্যে দীর্ঘ আট ঘণ্টা আলোচনার পর বেসেন্ট একে অত্যন্ত সফল হিসেবে অভিহিত করেন। এই বৈঠকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি বিশ্বের শীর্ষ দুই এআই শক্তিধর দেশের মধ্যে পারস্পরিক নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রাথমিক পদক্ষেপ।
নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত গুরুতর হুমকি মোকাবিলায় একটি নতুন তথ্য আদান-প্রদান ব্যবস্থা বা নোটিফিকেশন মেকানিজম তৈরির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট জানান, এআই খাতে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি করা জরুরি। তিনি বলেন, বিশ্বের এক নম্বর এবং দুই নম্বর এআই শক্তিধর দেশের মধ্যে যেকোনো আন্তঃসীমান্ত কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার স্পষ্ট করেছেন যে, প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থায় উন্নত এআই চিপ বা সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সরঞ্জামের ওপর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ অন্তর্ভুক্ত নয়।
বৈঠকটিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ছাড়াও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উভয় পক্ষ গত মে মাসে সম্মত হওয়া একটি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছে, যার লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর শুল্ক কমানো। এর মধ্যে মার্কিন কৃষি পণ্য, জ্বালানি ও চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং চীনের কিছু ভোগ্যপণ্য থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন জেমিসন গ্রিয়ার।
চীনের পক্ষ থেকেও আলোচনার পরিবেশকে ইতিবাচক হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, উভয় দেশ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা করেছে। তবে বিরল খনিজ পদার্থ ও চুম্বক সরবরাহ নিয়ে চলমান উত্তেজনার বিষয়ে নতুন কোনো অগ্রগতির ঘোষণা আসেনি। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান বাণিজ্যিক সমঝোতার মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় এই আলোচনাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।