সুইজারল্যান্ডের জেনেভার কাছে অবস্থিত সার্ন (CERN)-এর লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে আলবার্ট আইনস্টাইনের সেই বিখ্যাত ‘স্পুকি অ্যাকশন অ্যাট এ ডিস্টেন্স’ বা কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের অস্তিত্ব প্রমাণের দাবি করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল পদার্থবিজ্ঞানী। হাইগস বোসন কণার ক্ষয়ের সময় ভারী এবং অতি ক্ষণস্থায়ী জেড (Z) বোসন কণার মধ্যে এই কোয়ান্টাম সংযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম বড় পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই গবেষণার ফলাফল ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট হলো এমন একটি রহস্যময় ঘটনা, যেখানে দুটি কণা একে অপরের সাথে এমনভাবে যুক্ত থাকে যে একটির পরিমাপ অন্যটির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা দেয়, দূরত্ব যতই হোক না কেন। আইনস্টাইন একেই ‘ভুতুড়ে কাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। অতীতে ফোটন বা ইলেকট্রনের মতো কণায় এই প্রভাব দেখা গেলেও, এত বেশি শক্তি এবং অত্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশে এটি টিকে থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে সংশয় ছিল।
গবেষক দলের মতে, প্রোটন যখন আলোর গতির ৯৯.৯৯ শতাংশ গতিতে একে অপরের সাথে সংঘর্ষ ঘটায়, তখন হাইগস বোসন কণা তৈরি হয়। এই হাইগস বোসন কণা ক্ষয়ের মাধ্যমে দুটি জেড বোসন তৈরি করে, যা অত্যন্ত অল্প সময়ের জন্য টিকে থাকে। অ্যাটলাস ডিটেক্টর ব্যবহার করে বিজ্ঞানীরা এই ক্ষয়ের সময় জেড বোসনগুলোর স্পিন বা ঘূর্ণন বিশ্লেষণ করেন। এর মাধ্যমে তারা নিশ্চিত হন যে, কণাগুলোর মধ্যে কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্টের প্রত্যাশিত বৈশিষ্ট্য বজায় ছিল।
অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক অ্যালান বার জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম এনট্যাঙ্গেলমেন্ট সাধারণত খুব সূক্ষ্ম একটি প্রক্রিয়া হিসেবে পরিচিত। কিন্তু লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারের মতো অত্যন্ত শক্তিশালী ও ধ্বংসাত্মক সংঘর্ষের মধ্যেও এই প্রভাব সক্রিয় থাকা এটিই প্রমাণ করে যে, কোয়ান্টাম মেকানিক্সের নিয়মগুলো প্রকৃতির প্রতিটি স্তরে সমানভাবে কার্যকর। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং শক্তিশালী যোগাযোগ ব্যবস্থা তৈরিতে নতুন পথ খুলে দিতে পারে।