জাপানের বিভিন্ন এলাকায় শক্তিশালী টাইফুন দুজুয়ানের আঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির আবহাওয়া সংস্থা এ ঝড়কে জীবনের জন্য হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করার পর প্রায় ২০ লাখ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে জাপানের সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ক্ষয়ক্ষতি ও আবহাওয়া পরিস্থিতি
টাইফুনটির প্রভাবে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৩০ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতিবেগ ১৯৪ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে। ঝড়ের কারণে ৫০ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে। এছাড়া শত শত ফ্লাইট বাতিল ও ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। কানাগাওয়া ও চিবা প্রিফেকচারে ভূমিধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ইয়োকোসুকা শহরের একটি বাড়িতে ভূমিধসের ঘটনায় ৬০ বছর বয়সী এক নারী এবং চিবা প্রিফেকচারে ধ্বংসাবশেষ সরানোর সময় ৫০ বছর বয়সী এক কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া ও সরকারি পদক্ষেপ
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এক্স পোস্টে নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার জন্য মন্ত্রীপরিষদ সচিব তাকেহারা এবং মন্ত্রী হসোনোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তার পূর্বনির্ধারিত সফর অনুযায়ী জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছেন। জাপানের পাবলিক ব্রডকাস্টার এনএইচকে জানিয়েছে, ঝড়ের কারণে জাপানে পাঁচদিনের ছুটির মধ্যে অনেক উৎসব ও অনুষ্ঠান বাতিল করতে হয়েছে।
ঝড়ের প্রভাব ও কারণ
প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সৃষ্ট শক্তিশালী এ ঝড়ের পেছনে ‘সুপার এল নিনো’ প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সাগরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে টাইফুনগুলো অধিক শক্তিশালী হয়ে উঠছে। জাপানের উপকূলে চলমান এ ঝড়টি এখন উত্তরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ মঙ্গলবার নাগাদ জানা যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।