ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্রাসেলসে ইউরোপীয় কমিশন ডেটা সেন্টার অপারেটরদের জন্য জ্বালানি ও পানির ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ্যে আনার নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে। ইউরোপীয় কমিশনের মতে, এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশের সাথে তাল মিলিয়ে তথ্যপ্রযুক্তির অবকাঠামোর পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা। আগামী সাত বছরে ইইউ তাদের ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা তিন গুণ করার পরিকল্পনা করছে, যা বিদ্যুৎ গ্রিড ও প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডেটা সেন্টারগুলো ৬৮ টেরাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ ব্যবহার করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসারের কারণে ২০৩০ সাল নাগাদ এই চাহিদা বেড়ে ১১৪ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে, যা ব্লকের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের তিন শতাংশের বেশি। এই বিশাল বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতেই নতুন এই স্থায়িত্ব লেবেলিং সিস্টেমের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যেসব ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা ৫০০ কিলোওয়াটের বেশি, তাদের একটি সাধারণ রেটিং সিস্টেমের অধীনে নিজেদের ব্যবহারের তথ্য প্রকাশ করতে হবে। এর মধ্যে স্থানীয় এলাকায় পানির সংকট বিবেচনায় পানির ব্যবহার এবং নষ্ট হওয়া তাপ পুনরায় কাজে লাগানোর মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইউরোপীয় কমিশন জানিয়েছে, ডেটা সেন্টারগুলোকে অত্যন্ত জ্বালানি ও পানি সাশ্রয়ী হতে হবে এবং সেগুলোকে সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থার সাথে টেকসইভাবে সমন্বিত করতে হবে। গৃহস্থালি যন্ত্রপাতির শক্তির মানের লেবেলের মতোই ডেটা সেন্টারের জন্য এই নতুন লেবেলিং ব্যবস্থা চালু করা হবে, যা পরবর্তীতে ন্যূনতম কর্মক্ষমতার মানদণ্ড নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
বর্তমানে ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ও কাউন্সিলে এই প্রস্তাবের ওপর দুই মাসের পরামর্শমূলক সময় চলছে। সব কিছু পরিকল্পনামাফিক চললে আগামী বছর থেকেই ডেটা সেন্টারগুলো তাদের স্থায়িত্বের লেবেল প্রকাশ করা শুরু করবে।