লিথুয়ানিয়ার ভিলনিয়াসে রাশিয়ার পক্ষ থেকে আসা ক্রমাগত হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী মিনদুগাস সিঙ্কেভিসিয়াস জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে তার দেশ পাল্টা লড়াই করতে প্রস্তুত। বিসিবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাশিয়া আক্রমণ করলে লিথুয়ানিয়া আত্মসমর্পণ করবে না বরং সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। তবে সম্ভাব্য যুদ্ধের বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে বেসামরিক নাগরিকদের, বিশেষ করে বয়োজ্যেষ্ঠদের শহর থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার জন্য দেশটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
লিথুয়ানিয়া দীর্ঘদিন ধরে রাশিয়ার সামরিক কর্মকাণ্ড এবং ড্রোন অনুপ্রবেশের কারণে অস্তিত্ব সংকটের ঝুঁকি অনুভব করছে। সিঙ্কেভিসিয়াস জানান, রাশিয়ার কাছ থেকে আসা বাস্তব হুমকির কথা তারা প্রতিনিয়ত অনুভব করছেন। দেশটির আকাশসীমায় প্রায়ই ড্রোন অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটছে, যার সর্বশেষটি গত সপ্তাহে ন্যাটোর ফাইটার পাইলটরা গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
লিথুয়ানিয়া ন্যাটোর সদস্য রাষ্ট্র হওয়ায় এর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সামরিক মিত্ররা পাশে রয়েছে। বর্তমানে সেখানে ন্যাটোর কয়েক হাজার সেনা মোতায়েন আছে। এর মধ্যে জার্মানি একটি পূর্ণাঙ্গ ব্রিগেড মোতায়েনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যা ২০২৭ সালের মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতা অর্জন করবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সেনা দলও দেশটিতে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে।
সম্প্রতি বেলারুশের পক্ষ থেকে চালানো ‘হাইব্রিড হামলা’র কারণে লিথুয়ানিয়ার প্রধান বিমানবন্দরে ফ্লাইট কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। বেলুনের মতো দেখতে বিভিন্ন বস্তু ব্যবহার করে এই অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ন্যাটোর সদস্য হিসেবে লিথুয়ানিয়া, এস্তোনিয়া এবং লাটভিয়া সম্মিলিতভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।