প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট এল নিনো এবার অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। গত ১৯ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয়-পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৩.০৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল, যা ২০১৫ সালের রেকর্ড ৩.০২ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে ছাড়িয়ে গেছে। চলতি বছরের শেষভাগে এল নিনো চূড়ান্ত মাত্রায় পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
যুক্তরাজ্যের মেট অফিসের লং রেঞ্জ প্রেডিকশন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অ্যাডাম স্কাইফ জানিয়েছেন, এই ঘটনাটি নজিরবিহীন। এখনো এল নিনোর তীব্রতা বাড়ার সময় বাকি আছে, যা এর ভয়াবহতা নির্দেশ করছে। এল নিনো মূলত প্রশান্ত মহাসাগরের জলবায়ুর একটি স্বাভাবিক চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পর পর ঘটে। তবে এর ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে, যার প্রভাব ইতিমধ্যে বিভিন্ন দেশে অনুভূত হচ্ছে।
বৈশ্বিক প্রভাব
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট দাবানলে প্রায় এক কোটি ২৫ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাতের পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম হয়েছে। এল নিনোর প্রভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড় ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি ব্রাজিল, অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় খরা ও দাবানলের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যান্য অঞ্চলের পরিস্থিতি
আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়ার আবহাওয়াবিদরা এল নিনোর তীব্রতা মাপার বিভিন্ন সূচক ব্যবহার করছেন। যদিও কিছু সূচকে এটি এখনো রেকর্ড ভাঙেনি, তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে। ইউরোপের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে শরৎকাল ও শীতের শুরুতে ঝড় ও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে মেট অফিস। তবে এল নিনোর প্রভাব প্রতিটি অঞ্চলের জন্য ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা।