ফ্রান্সের নিয়ন্ত্রণাধীন কারগুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জে বিজ্ঞানীরা নতুন এক প্রজাতির জেন্টু পেঙ্গুইনের সন্ধান পেয়েছেন। গত ১০০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে এটিই প্রথমবারের মতো নতুন কোনো পেঙ্গুইন প্রজাতি শনাক্ত হওয়ার ঘটনা। চিলির গবেষক এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের বিজ্ঞানীদের একটি আন্তর্জাতিক দল গবেষণার মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তাদের এই গবেষণা প্রতিবেদনটি ‘কমিউনিকেশনস বায়োলজি’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল জেন্টু পেঙ্গুইন একটি একক প্রজাতি। তবে ডিএনএ বিশ্লেষণ ও জেনেটিক তথ্যপ্রমাণ বলছে, জেন্টু পেঙ্গুইন মূলত চারটি পৃথক প্রজাতির সমষ্টি। নতুন শনাক্ত হওয়া এই প্রজাতিটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘পাইগোসেলিস কারগুয়েলেনসিস’ (Pygoscelis kerguelensis)। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় এই পেঙ্গুইনটি শারীরিক গঠন ও কণ্ঠস্বরের দিক থেকে অন্য প্রজাতির মতো হলেও জেনেটিক দিক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
গবেষণায় দেখা গেছে, কারগুয়েলেন দ্বীপপুঞ্জের বিচ্ছিন্ন পরিবেশ ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিবর্তনের ধারায় এই পেঙ্গুইনগুলো অন্যান্য প্রজাতি থেকে আলাদা হয়ে পড়েছে। তবে এই আবিষ্কারের পাশাপাশি গবেষকরা জলবায়ু পরিবর্তনের আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ২০৫০ সালের মধ্যে এসব দ্বীপের অনেক পেঙ্গুইন আবাসস্থল হারিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, বার্কলের অধ্যাপক ও এই গবেষণার অন্যতম লেখক রৌরি বোউই জানান, দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে জেন্টু পেঙ্গুইনের শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এবার উন্নত জিনোমিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে সেই বিতর্কের অবসান ঘটানো সম্ভব হয়েছে। গবেষকরা বলছেন, কেবল নতুন প্রজাতি শনাক্ত করাই নয়, বরং এই তথ্যগুলো সংরক্ষণের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে সাব-অ্যান্টার্কটিক অঞ্চলে বসবাসকারী পেঙ্গুইনদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।