জার্মানির বার্লিনে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মার্জের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এখন গভীর সংকটের মুখে পড়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নির্বাচনে তার দল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) শোচনীয় পরাজয় এবং জনমত জরিপে জনপ্রিয়তা মাত্র ১৩ শতাংশে নেমে আসায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটিতে এমন অস্থিরতা দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
রাজনৈতিক রেকর্ড এবং জনপ্রিয়তা
ফ্রিডরিখ মার্জ ১৬ মাস আগে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তার জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। অনেক ভোটার তাকে অহংকারী এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা থেকে বিচ্ছিন্ন বলে মনে করেন। সম্প্রতি মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্নসহ তিনটি আঞ্চলিক নির্বাচনে তার দল সিডিইউ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে মেকলেনবুর্গ-ভোরপোমার্ন রাজ্যে দলটি ৫ শতাংশের ন্যূনতম ভোট পাওয়ার রেকর্ডও ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।
চরমপন্থি দলের উত্থান
মার্জের দলের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অভিবাসনবিরোধী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। দলটি স্যাক্সোনি-আনহাল্টসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে বড় জয় পেয়েছে এবং এখন জাতীয় পর্যায়ে জনমত জরিপে শীর্ষে রয়েছে। এএফডি নেতাদের দাবি, মার্জ অর্থনীতি এবং অভিবাসন সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করতে ব্যর্থ হওয়ায় ভোটাররা তাদের দিকে ঝুঁকছে।
স্থিরতার অভাব ও প্রভাব
জার্মানির রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ধরনের অস্থিরতা অত্যন্ত অস্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির এই টালমাটাল পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে জার্মানির মতো একটি শক্তিশালী অর্থনীতির রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
গুঞ্জন রয়েছে যে, মার্জকে সরিয়ে দলের অন্য কোনো জনপ্রিয় নেতাকে স্থলাভিষিক্ত করার পরিকল্পনা করছে সিডিইউ। তবে মার্জ নিজে তার সংস্কার কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, কর, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে সমৃদ্ধি অর্জনের জন্য তিনি অবিচল থাকতে চান। তবে জার্মান ভোটারদের ধৈর্য যে ফুরিয়ে আসছে, তা সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফলই স্পষ্ট করে দিচ্ছে।