যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি বিষয়ক সংবাদমাধ্যম এনগ্যাজেটের সাংবাদিক ম্যাক মিলার জানিয়েছেন, বাড়িতে অব্যবহৃত পড়ে থাকা দশ বছরের কম বয়সী ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটারকে সহজেই একটি মিডিয়া সার্ভারে রূপান্তর করা যায়। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা নিজেদের সংগ্রহে থাকা আইনি মিডিয়া ফাইলগুলো বাড়ির যেকোনো ডিভাইসে স্ট্রিমিং করতে পারেন।
অপারেটিং সিস্টেম নির্বাচন
একটি মিডিয়া সার্ভার তৈরির প্রথম ধাপে পিসিতে উইন্ডোজ নাকি লিনাক্স রাখা হবে, তা ঠিক করতে হয়। উইন্ডোজ পরিচিত পরিবেশ হলেও লিনাক্স অনেক বেশি হালকা এবং পুরানো হার্ডওয়্যারের জন্য কার্যকর। এছাড়া উইন্ডোজ ১০-এর নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে উইন্ডোজ ১১ সমর্থিত না হলে লিনাক্স ব্যবহার করা একটি বুদ্ধিমানের কাজ হতে পারে। ফেডোরা সার্ভার বা উবুন্টু সার্ভারের মতো সংস্করণগুলো এক্ষেত্রে বেশ জনপ্রিয়। যারা উইন্ডোজই রাখতে চান, তাদের ক্ষেত্রে পিসিটি রিসেট করে ফ্রেশ ইনস্টল করে নেওয়া ভালো।
সফটওয়্যার ও স্টোরেজ ব্যবস্থাপনা
মিডিয়া সার্ভারের জন্য প্লেক্স (Plex) এবং জেলিফিন (Jellyfin) সবচেয়ে জনপ্রিয় সফটওয়্যার। প্লেক্স সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সহজবোধ্য, তবে এর উন্নত অনেক ফিচার সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে ব্যবহার করতে হয়। অন্যদিকে জেলিফিন সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং বিনামূল্যে ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তবে এটি কনফিগার করতে কিছুটা কারিগরি দক্ষতার প্রয়োজন হতে পারে।
আপনার মিডিয়া ফাইলগুলো সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত স্টোরেজ থাকা জরুরি। সার্ভার বিশেষজ্ঞরা অনেক সময় একাধিক হার্ডড্রাইভ এবং আরএআইডি (RAID) প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেন, যাতে একটি ড্রাইভ নষ্ট হলেও তথ্য সুরক্ষিত থাকে। ভিডিও ফাইলগুলো বিভিন্ন ডিভাইসে চালানোর সুবিধার্থে ট্রান্সকোডিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার। প্লেক্স এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে করলেও হার্ডওয়্যার এক্সিলারেশনের জন্য ফি দিতে হয়, আর জেলিফিনে এই সুবিধা বিনামূল্যে পাওয়া গেলেও তা ম্যানুয়ালি সেটআপ করতে হয়।