সেনেগালের ডাকারে সরকারি হাসপাতালের ভঙ্গুর স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার শিকার হয়েছেন আওয়া দিবা নামের এক প্রসূতি মা। চিকিৎসকদের দেশব্যাপী ধর্মঘটের ঠিক ২৪ ঘণ্টা আগে প্রসব বেদনা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া দিবা সেখানে যে অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন, তা দেশটির স্বাস্থ্য খাতের সংকটাপন্ন অবস্থাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। দিবাই জানিয়েছেন, হাসপাতালের কক্ষের ছাদ ফাটা ছিল, বৈদ্যুতিক পাখা অকেজো ছিল এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ছিল অনিয়মিত। সন্তান জন্ম দেওয়ার দীর্ঘ ২৪ ঘণ্টা সময়ে রোগীদের ভীতি ও কান্নার শব্দ শোনা গেলেও সেবার মান ছিল প্রশ্নবিদ্ধ।
দিবা নিজে একজন প্রশিক্ষণরত নার্স। তিনি জানান, হাসপাতালের পরিবেশ দেখে মনে হয়েছে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থাটিই অসুস্থ। সেনেগালের ন্যাশনাল মেডিকেল কাউন্সিলের তথ্যমতে, ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ দেশটিতে নিবন্ধিত চিকিৎসকের সংখ্যা ছিল মাত্র ৫ হাজার ২৩৬ জন। এসএএমইএস (SAMES) ইউনিয়ন জানিয়েছে, চিকিৎসকদের দাবিগুলো ২০২৩ সাল থেকেই অমীমাংসিত। তারা হাসপাতালে নতুন নিয়োগ, উন্নত কর্মপরিবেশ, পেনশন সুবিধা এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আধুনিকায়নের দাবি জানিয়ে আসছেন।
স্বাস্থ্য খাতের এই সংকটের পেছনে ঋণের বোঝাকে দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের শেষ দিকে সেনেগালের সরকারি ঋণের পরিমাণ ছিল জিডিপির ১৩২ শতাংশ। প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই ঋণের প্রকৃত চিত্র উন্মোচিত হয়। ফলে একদিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থাকলেও অন্যদিকে সরকারি পরিষেবা খাতে ব্যয়ের সুযোগ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালগুলোর এই দুরবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ ভয়ে থাকে যে তারা হয়তো জীবিত ফিরে আসবে না। চিকিৎসার উচ্চমূল্যের কারণে অনেক রোগী একেবারে শেষ পর্যায়ে হাসপাতালে আসেন। নবজাতক কন্যা মরিয়মকে কোলে নিয়ে আওয়া দিবা বলেন, তিনি এমন একটি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেন না যেখানে তার সন্তানকে এত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়।