যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা চ্যাটজিপিটি বা এজাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) চ্যাটবট ব্যবহারের ক্ষেত্রে ব্যবহারকারীদের পাঁচটি বিষয়ে কঠোর সতর্কতার পরামর্শ দিয়েছেন। স্যাম অল্টম্যানসহ প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিরা স্বীকার করেছেন যে, এআই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা তথ্য সম্পূর্ণ সুরক্ষিত নয় এবং এগুলো আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মূলত ব্যক্তিগত ও পেশাগত নিরাপত্তার স্বার্থেই এই সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
আইনগত পরামর্শ
চ্যাটজিপিটিকে কোনোভাবেই আইনি পরামর্শের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আদালতে এআই দ্বারা তৈরি ভুয়া আইনি রেফারেন্স বা উদ্ধৃতি জমা দেওয়ার অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে। এআই চ্যাটবটের তথ্য আইনত সংরক্ষিত নয়, ফলে কোনো আইনি বিবাদ চলাকালীন সেখানে শেয়ার করা তথ্য প্রতিপক্ষের হাতে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
মানসিক স্বাস্থ্য ও থেরাপি
চ্যাটজিপিটিকে থেরাপিস্ট বা কাউন্সেলর হিসেবে বিবেচনা করা বড় ভুল। অনেক ব্যবহারকারী মানসিক সমস্যার সমাধান খুঁজতে চ্যাটবটের ওপর নির্ভর করছেন, যা উল্টো ক্ষতির কারণ হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, চ্যাটবট অনেক সময় ব্যবহারকারীর ভুল ধারণাকে সমর্থন করে, যা মানসিক সংকটে থাকা ব্যক্তিদের জন্য বিপজ্জনক। নেভাদা ও মেইনের মতো মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যে এআইয়ের মাধ্যমে থেরাপি প্রদানের ওপর আইনি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
দাপ্তরিক গোপনীয় তথ্য
অফিসের গোপনীয় নথি বা সোর্স কোড চ্যাটজিপিটিতে আপলোড করা চাকরি হারানোর মতো অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। স্যামসাংয়ের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো অভ্যন্তরীণ কোড এআই প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করার পর নিরাপত্তার ঝুঁকি এড়াতে তা নিষিদ্ধ করেছে। একবার কোনো তথ্য চ্যাটবটে দিলে তা কোম্পানির সার্ভারে থেকে যায় এবং পরবর্তী মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হতে পারে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ
চিকিৎসা বা স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য চ্যাটবটে দেওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চিকিৎসকদের ক্ষেত্রে যে রোগী-চিকিৎসক গোপনীয়তা আইন (যেমন হিপা) কার্যকর থাকে, তা ওপেনএআইয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। ভুল পরামর্শের কারণে বড় ধরনের শারীরিক জটিলতার ঝুঁকি থাকে, যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন চিকিৎসা সংক্রান্ত ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে।
ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড ও আইডি নম্বর
পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ, পরিচয়পত্রের নম্বর বা যেকোনো ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য চ্যাটবটে টাইপ করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অতীতে দেখা গেছে, অসাবধানতার কারণে অনেক ব্যবহারকারীর চ্যাট গুগল সার্চে ইনডেক্স হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া আইনি প্রক্রিয়ায় চ্যাটলগ তলব করার ক্ষমতা আদালতের রয়েছে, তাই গোপনীয় তথ্য শেয়ার করা মানেই নিজের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ানো।