সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার রিসার্চের (CERN) লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে (LHC) চালানো গবেষণায় মাইক্রোস্কোপিক বা আণুবীক্ষণিক ব্ল্যাক হোলের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান্তা বারবারার গবেষকরা এই তথ্য জানিয়েছেন। ব্ল্যাক হোলের সন্ধানে ব্যর্থ হলেও, এই ফলাফল মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম তত্ত্বের সমন্বয় সাধনে ব্যবহৃত প্রচলিত ধারণার সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করতে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
গবেষক তামাস ভামি ও দানি ঝাং জানান, যদিও তারা ব্ল্যাক হোলের প্রমাণ পাননি, তবে গবেষণায় ব্যবহৃত নতুন মেশিন লার্নিং পদ্ধতি ভবিষ্যতে অজানা কণা শনাক্তকরণে সহায়ক হবে। এই গবেষণার ফলাফল প্রগ্রেস ইন হাই এনার্জি ফিজিক্স জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দলের মতে, আণুবীক্ষণিক ব্ল্যাক হোলগুলো মহাকর্ষ ও কোয়ান্টাম মেকানিক্সের অমিমাংসিত রহস্য সমাধানের চাবিকাঠি হতে পারত। যদি এগুলো অস্তিত্বশীল থাকত, তবে তা মহাবিশ্বের মৌলিক শক্তিগুলোর সমন্বয় বুঝতে গবেষকদের সাহায্য করত। তবে বর্তমান ফলাফল অনুযায়ী, ১২ টেরা-ইলেকট্রন ভোল্ট (TeV) পর্যন্ত শক্তিমাত্রায় এগুলোর উপস্থিতির সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
বিজ্ঞানীরা জানান, এই ধরনের ব্ল্যাক হোল যদি তৈরি হতোও, তবে তা দ্রুতই অদৃশ্য হয়ে যেত। এটি আমাদের পরিচিত বিশাল আকৃতির ব্ল্যাক হোলের মতো নয়। লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে প্রোটন-প্রোটন সংঘর্ষের মাধ্যমে তৈরি হওয়া এ ধরনের ব্ল্যাক হোল মহাকর্ষীয় শক্তির রহস্য উন্মোচনে ভূমিকা রাখতে পারত বলে তাত্ত্বিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল।
অদূর ভবিষ্যতে লার্জ হ্যাড্রন কোলাইডারে হাই লুমিনোসিটি আপগ্রেড সম্পন্ন হলে গবেষকরা আরও বড় পরিসরে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এতে অতি বিরল কোনো ঘটনার উপস্থিতি শনাক্তের সম্ভাবনা বাড়বে। একই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা স্ফ্যালরন (sphalerons) নামক তত্ত্বীয় কণা কাঠামোর উপস্থিতিও অনুসন্ধান করেছেন, তবে সেটিরও কোনো প্রমাণ মেলেনি।