যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের একটি জেলা আদালতে ব্রিটিশ টেনিস খেলোয়াড় তারা মুরের করা ১৫ মিলিয়ন পাউন্ডের ক্ষতিপূরণ মামলাটি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। ডোপিংয়ের দায়ে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ হওয়া এই তারকা নারী টেনিস অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউটিএ) বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনে এই মামলা করেছিলেন। আদালতের এই রায়ের ফলে মামলাটি চূড়ান্তভাবে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পটভূমি
২০২২ সালের এপ্রিলে বোগোতায় ডব্লিউটিএ ২৫০ টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সময় তারা মুরের নমুনায় ন্যানড্রোলোন ও বোলডিনোনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। পরবর্তী তদন্তে একটি স্বাধীন ট্রাইব্যুনাল জানায় যে, দূষিত মাংস খাওয়ার কারণেই তার শরীরে এই উপাদানের উপস্থিতি ছিল। প্রথমদিকে তাকে কোনো দোষী সাব্যস্ত করা না হলেও, আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি (আইটিআইএ) এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে। এরপর কোর্ট অফ আরবিট্রেশন ফর স্পোর্ট (কাস) মুরের চার বছরের নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে, যা ২০২৮ সাল পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
মামলার কারণ
৩৪ বছর বয়সী তারা মুর দাবি করেছিলেন, কলম্বিয়ার টুর্নামেন্টে দূষিত মাংস খাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে খেলোয়াড়দের সতর্ক করেনি ডব্লিউটিএ। তিনি অভিযোগ করেন, সংস্থাটি তাদের গাফিলতির দায় খেলোয়াড়ের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। এই ক্ষতিপূরণের দাবিতে তিনি আমেরিকান আরবিট্রেশন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে আইনি লড়াই শুরু করেছিলেন। তবে আরবিট্রেটর কাসের রায়কে সমর্থন জানিয়ে মুরের দাবি খারিজ করে দিলে তিনি নিউইয়র্কের আদালতে আপিল করেন।
আদালতের পর্যবেক্ষণ
নিউইয়র্কের জেলা আদালতের বিচারক অ্যান্ড্রু কার্টার পর্যবেক্ষণ করেন যে, মুরের এই আইনি চ্যালেঞ্জের কোনো জোরালো ভিত্তি নেই। নিজের প্রতিক্রিয়ায় তারা মুর এই পুরো ঘটনাকে একটি দুঃস্বপ্ন হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন, এই রায় টেনিসের ডোপিং বিরোধী ব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্রুটি ও অসামঞ্জস্যতা তুলে ধরেছে।