জার্মানিতে নাৎসি ক্যাম্পের অপরাধে ১০৫ বছর বয়সী বৃদ্ধের বিরুদ্ধে তদন্ত

September 24, 2026

জার্মানির সেনে শহরের স্টালাগ ৩২৬ ভি কে নামক নাৎসি যুদ্ধবন্দী ক্যাম্পে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১০৫ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্ত করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। ডর্টমুন্ডের সরকারি কৌঁসুলি সোনিয়া ফ্রোডারম্যান এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তি ক্যাম্পের প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বহু হত্যাকাণ্ডের সহযোগী ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্তের পটভূমি
একই ক্যাম্পে দায়িত্ব পালন করা ৯৯ বছর বয়সী আরেক প্রহরীর বিরুদ্ধেও তদন্ত চলছিল, তবে কয়েক মাস আগে তিনি মারা গেছেন। বর্তমানে বিচারের মুখোমুখি থাকা ১০৫ বছর বয়সী এই ব্যক্তি নাৎসি আমলের অপরাধের তদন্তের অংশ হিসেবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরে এসেছেন। ১৯৭৯ সাল থেকে জার্মানিতে হত্যা বা হত্যার সহযোগী হওয়ার অপরাধে কোনো সময়সীমা না থাকায় এই বিচারিক প্রক্রিয়া চালানো সম্ভব হচ্ছে।

ক্যাম্পের ভয়াবহ ইতিহাস
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় স্টালাগ ৩২৬ ছিল সোভিয়েত রেড আর্মির বন্দী সেনাদের অন্যতম প্রধান ক্যাম্প। ১৯৪১ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে জার্মানিতে প্রবেশ করা সোভিয়েত যুদ্ধবন্দীদের এক-তৃতীয়াংশই এই ক্যাম্পের মধ্য দিয়ে গিয়েছিল। এখানে বন্দীদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হতো এবং পুষ্টিহীনতার কারণে অনেকের মৃত্যু হয়। নথিপত্র অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ২ লাখ সোভিয়েত বন্দীকে এখানে নিবন্ধন করা হয়েছিল, যাদের মধ্যে হাজার হাজার সেনা এই ক্যাম্পের মাটিতেই সমাহিত আছেন।

বিচারিক জটিলতা
যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রায় ৮ দশক পর নাৎসি অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এখন বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অধিকাংশ সন্দেহভাজন এরই মধ্যে মারা গেছেন। এর আগে ২০২১ সালে ১০১ বছর বয়সী এক নাৎসি প্রহরীকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যিনি আপিল চলাকালীন ২০২৩ সালে মারা যান। এছাড়া ২০২২ সালে নাৎসি ক্যাম্পের এক নারী কর্মীকেও হত্যার সহযোগী হিসেবে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল। বর্তমান এই তদন্ত ডর্টমুন্ডের সরকারি কৌঁসুলিরা পরিচালনা করছেন এবং লডউইগসবার্গের নাৎসি অপরাধ তদন্ত কেন্দ্র এতে সহায়তা করছে।

Leave a Comment