জাপানের টোকিও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের গবেষকসহ একটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী দল শনির উপগ্রহ এনসেলাডাস থেকে মহাকাশে নির্গত বরফের কণা নিয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। গবেষকরা জানিয়েছেন, এনসেলাডাসের বরফাবৃত পৃষ্ঠের নিচে থাকা বিশাল মহাসাগর থেকে নির্গত বাষ্প ও বরফ কণাগুলো মহাকাশে যাওয়ার সময় এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান আলাদা ও ঘনীভূত করে, যা প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার কাজকে সহজতর করতে পারে।
গবেষণাটিতে বলা হয়েছে, এনসেলাডাসের দক্ষিণ মেরুর ফাটল দিয়ে পানির বাষ্প এবং বরফ কণাগুলো মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। নাসার ক্যাসিনি মহাকাশযানের সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, এই কণাগুলোর রাসায়নিক গঠন একে অপরের চেয়ে অনেক আলাদা। কোনোটিতে সোডিয়াম ক্লোরাইড বেশি, আবার কোনোটিতে কার্বনেট বা ফসফেটের উপস্থিতি বেশি।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
সাধারণত ধারণা করা হতো, উপগ্রহটির মহাসাগর থেকে আসা পানি দ্রুত জমে গিয়ে মহাকাশে ছড়িয়ে পড়ে। তবে টোকিও ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের অধ্যাপক ইয়াসুহিতো সেকিনে এবং তার দল ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার মাধ্যমে দেখেছেন, পানির ফোঁটাগুলো যদি ধীরে জমে, তবে সেগুলোর ভেতরে বিভিন্ন লবণ ও খনিজ উপাদান আলাদা হয়ে যায়। এই ফোঁটাগুলো ভেঙে ছোট ছোট কণায় পরিণত হওয়ার সময় ভিন্ন ভিন্ন রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য ধারণ করে।
এই প্রক্রিয়াটি কেবল লবণ আলাদা করে না, বরং জৈব উপাদানগুলোকেও ঘনীভূত করতে সাহায্য করে। এটি গবেষকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো নমুনা বিশ্লেষণের আগে ল্যাবরেটরিতে যে ধরনের প্রস্তুতি নিতে হয়, এনসেলাডাসের বরফের কণাগুলো প্রাকৃতিকভাবেই সেই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
এই আবিষ্কারের ফলে ভবিষ্যতে শনির উপগ্রহে পাঠানো মহাকাশযানগুলোর জন্য প্রাণের লক্ষণ খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হবে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বরফের এই কণাগুলো বিশ্লেষণ করেই এনসেলাডাসের ভূগর্ভস্থ মহাসাগরের পরিবেশ এবং সেখানে জীবনের অনুকূল কোনো রসায়ন আছে কি না, তা সঠিকভাবে জানা সম্ভব হবে। গবেষক দলের মতে, এটি কেবল ক্যাসিনি মিশনের রহস্যই সমাধান করেনি, বরং মহাজাগতিক প্রাণের অনুসন্ধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।