আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিপূর্ণ জিন মস্তিষ্কের কোষ সংকুচিত করে: নতুন গবেষণা

August 24, 2026

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার গ্ল্যাডস্টোন ইনস্টিটিউটে আলঝেইমার রোগের ঝুঁকিপূর্ণ জিন এপিওই৪ (APOE4) নিয়ে নতুন গবেষণায় চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকরা দেখেছেন, এই জিনটি আলঝেইমারের প্রাথমিক লক্ষণ প্রকাশের অনেক আগে থেকেই মস্তিষ্কের কোষগুলোতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে আলঝেইমার নিরাময়ে নতুন চিকিৎসার পথ দেখাতে পারে।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এপিওই৪ জিনের প্রভাবে মস্তিষ্কে ‘নেল২’ (Nell2) নামক একটি প্রোটিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এর ফলে স্নায়ুকোষগুলো সংকুচিত হয়ে পড়ে এবং অস্বাভাবিক মাত্রায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইঁদুরের ওপর চালানো পরীক্ষায় দেখা গেছে, অল্প বয়সে যাদের মস্তিষ্কে এই অতি-সক্রিয়তা বেশি ছিল, পরবর্তীতে তাদের স্মৃতিশক্তি হ্রাসের হার তত বেশি ছিল।

গবেষণাটিতে নেল২ প্রোটিনের মাত্রা কমানোর মাধ্যমে ইঁদুরের মস্তিষ্কের কোষগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। এর ফলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, ভবিষ্যতে মানুষের ক্ষেত্রেও একইভাবে এই ক্ষতিকর প্রক্রিয়া আটকে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।

গবেষক দলের প্রধান মিশা জিলবার্টার জানান, তাদের এই গবেষণা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছে যে, এপিওই৪ জিন বয়সের বিভিন্ন পর্যায়ে স্নায়ুকোষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে। এটি আলঝেইমার রোগের ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ তৈরি করবে।

উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রতি চারজনের মধ্যে একজন এপিওই৪ জিনের বাহক। আলঝেইমারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশের শরীরে এই জিন ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া যায়। গবেষকদের মতে, এই জিনটি সাধারণ বয়সের তুলনায় মস্তিষ্কের অবক্ষয় প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা ভবিষ্যতে রোগীদের জন্য একটি কার্যকর থেরাপি উদ্ভাবনে সহায়ক হবে।

Leave a Comment