যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট ইরানের ওপর সর্বকালের সবচেয়ে কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি একে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বা অর্থনৈতিক যুদ্ধের দিন হিসেবে উল্লেখ করে জানিয়েছেন, ইরান এবং তাদের সহায়তাকারী দেশগুলোর ওপর এই কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে। এই পদক্ষেপটি বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নিষেধাজ্ঞার আওতা ও লক্ষ্য
স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে সমস্ত অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করবে এবং যারা তেহরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হবে। ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামক এই কর্মসূচির আওতায় ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, স্বর্ণ, এভিয়েশন এবং শিপিং সেক্টরের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রায় ৬০টি প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও জাহাজের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কোর এবং দেশটির সরকারের আয়ের সব পথ বন্ধ করে দেওয়া।
তেল সংকট ও ইরানের সতর্কতা
এই সংঘাতের জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান পাল্টা হুমকি দিয়েছে যে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের তেল রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যা ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে ইরান কার্যত অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
বিশ্লেষকদের মতামত
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের প্রধান জলবায়ু ও পণ্য অর্থনীতিবিদ ডেভিড অক্সলে এই নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, চীনের মতো দেশগুলো যারা ইরানের তেলের বড় ক্রেতা, তারা অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করেছে। তাই এই নতুন প্যাকেজের সরাসরি প্রভাব স্বল্প মেয়াদে সীমিত থাকতে পারে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
হোয়াইট হাউসের আগের অনেক কঠোর ঘোষণার পর পিছু হটার নজির থাকলেও, এবার যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে যে তারা ইরান সমস্যার স্থায়ী সমাধান চায়। এর আগে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন ২০১৮ সালে পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে এসে তেহরানের ওপর ফের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। চলমান এই সংকটের অর্থনৈতিক প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ওপরও পড়ছে, যেখানে তেলের উচ্চমূল্য নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।