সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অবস্থিত ইউরোপীয় পরমাণু গবেষণা সংস্থা সার্নে (CERN) পদার্থবিজ্ঞানীরা অতি ক্ষুদ্র পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষ ঘটিয়ে মহাবিশ্বের জন্মলগ্নের অতি ক্ষুদ্র সংস্করণ বা ‘মিনি বিগ ব্যাং’ তৈরি করেছেন। কোপেনহেগেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিলস বোর ইনস্টিটিউটের গবেষকরা আন্তর্জাতিক ‘এলিস’ (ALICE) কোলাবোরেশনের সহায়তায় এই বৈজ্ঞানিক সাফল্য অর্জন করেছেন। মহাবিশ্বের শুরুর কয়েক মাইক্রোসেকেন্ডের মধ্যে যে উত্তপ্ত কোয়ার্ক-গ্লুয়ন প্লাজমা বিদ্যমান ছিল, বিজ্ঞানীরা পরীক্ষাগারে তা পুনরায় সৃষ্টি করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রথাগত ধারণা অনুযায়ী, এই ধরনের আদিম পদার্থ সৃষ্টির জন্য সিসার মতো ভারী নিউক্লিয়াসের সংঘর্ষের প্রয়োজন হতো। তবে নতুন এই গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিজেন-১৬ এবং নিয়ন-২০ এর মতো ছোট নিউক্লিয়াস ব্যবহার করেও এই মহাজাগতিক অবস্থা তৈরি করা সম্ভব। প্রধান গবেষক ইউ ঝাউ জানিয়েছেন, এটি পদার্থবিজ্ঞানের একটি সীমানা নির্ধারণ করেছে, যা থেকে বোঝা সম্ভব বস্তুর এই চরম অবস্থার রূপান্তরের জন্য ঠিক কী ধরনের পারমাণবিক শর্ত প্রয়োজন।
এই গবেষণার অন্যতম আকর্ষণীয় দিক হলো সংঘর্ষের পর অবশিষ্ট কণাগুলোর গতিবিধি বিশ্লেষণ করে আদি নিউক্লিয়াসের আকৃতি শনাক্ত করা। গবেষকদের মতে, এটি অনেকটা কোনো বস্তুর ওপর আলো ফেলে তার ছায়া দেখে আকৃতি বোঝার মতো। অক্সিজেন নিউক্লিয়াস সংঘর্ষের ফলে গোলাকার প্যাটার্ন তৈরি করে, আর নিয়ন নিউক্লিয়াস থেকে পাওয়া যায় বোলিং পিনের মতো আকৃতি। এই তথ্য পারমাণবিক নিউক্লিয়াসের অভ্যন্তরীণ গঠন এবং প্রকৃতির চারটি মৌলিক বলের অন্যতম ‘স্ট্রং ফোর্স’ সম্পর্কে নতুন ধারণা দেবে।
এই আবিষ্কারটি বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। গবেষক দল এখন হিলিয়াম-৪ এর মতো আরও হালকা নিউক্লিয়াস নিয়ে পরীক্ষা চালানোর পরিকল্পনা করছেন, যাতে বোঝা যায় ঠিক কত ছোট নিউক্লিয়াস ব্যবহার করে কোয়ার্ক-গ্লুয়ন প্লাজমা তৈরি সম্ভব। গবেষণার এই ফল ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লেটারস’ নামক আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।