সুইজারল্যান্ডের লুজানে অবস্থিত কোর্ট অব আর্বিট্রেশন ফর স্পোর্ট বা কাসে (CAS) চার বছরের নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করেছেন চেক প্রজাতন্ত্রের টেনিস তারকা মার্কেটা ভনদ্রুসোভা। ডোপিং নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তার কাছে বাড়ি তল্লাশির সুযোগ না দেওয়ায় আন্তর্জাতিক টেনিস ইন্টিগ্রিটি এজেন্সি (ITIA) তাকে এই শাস্তি দেয়। ২০২৩ সালে উইম্বলডন জেতা ভনদ্রুসোভাকে দেওয়া এই শাস্তি ক্রীড়াঙ্গনে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ভনদ্রুসোভা তার বাড়িতে ডোপিং পরীক্ষার জন্য আসা কর্মকর্তাকে ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। এর প্রেক্ষিতে গত জুন মাসে তাকে চার বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ ২০৩০ সালের ২১ জুন পর্যন্ত। কাস নিশ্চিত করেছে যে, তারা খেলোয়াড়ের আপিল গ্রহণ করেছে, তবে শুনানির জন্য এখনো কোনো তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।
খেলোয়াড়ের দাবি
ভনদ্রুসোভা জানিয়েছেন, ঘটনার সময় তিনি প্রচণ্ড মানসিক ও শারীরিক চাপের মধ্যে ছিলেন। ওইদিন রাত আটটায় বাড়িতে আসা কর্মকর্তা নিজেকে যথাযথভাবে পরিচয় দিতে ব্যর্থ হন এবং প্রোটোকল অনুসরণ করেননি, যা তাকে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত করে তোলে। এরপরই তিনি কুকুর নিয়ে বাইরে বের হওয়ার সময় একটি অস্বীকৃতি পত্রে স্বাক্ষর করেন। ভনদ্রুসোভা দাবি করেছেন, তিনি কখনোই ডোপিং করেননি এবং তার ক্যারিয়ারে অসংখ্যবার পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পরিষ্কার ইমেজের প্রমাণ দিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণ
ট্রাইব্যুনালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ডোপিং পরীক্ষায় অস্বীকৃতি জানানোর পেছনে ভনদ্রুসোভা কোনো যৌক্তিক কারণ দেখাতে পারেননি। এমনকি শাস্তির মেয়াদ কমানোর মতো কোনো বিশেষ পরিস্থিতিও সেখানে ছিল না। নিয়ম অনুযায়ী, খেলোয়াড়দের প্রতিদিন নির্দিষ্ট এক ঘণ্টা সময় তাদের অবস্থান সম্পর্কে কর্তৃপক্ষকে অবহিত রাখতে হয় যাতে যেকোনো সময় ডোপিং পরীক্ষা করা সম্ভব হয়।
বর্তমান অবস্থা
সাবেক এই উইম্বলডন চ্যাম্পিয়ন চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অ্যাডিলেড ইন্টারন্যাশনালে দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার পর আর কোনো প্রতিযোগিতায় অংশ নেননি। এর ফলে ডব্লিউটিএ র্যাঙ্কিংয়ে তিনি ১৫৩ নম্বরে নেমে গেছেন। ক্যারিয়ারের একসময়ের ছয় নম্বর এই খেলোয়াড়ের আপিল আবেদনের দিকে এখন পুরো টেনিস দুনিয়ার নজর।