নিউজিল্যান্ডে ধর্মীয় নেতার কারাদণ্ড: বৃদ্ধা অনুসারী হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত

August 25, 2026

নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ডে এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নেতার নির্যাতনে এক চীনা বৃদ্ধা অনুসারীর মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত কাইশিয়াও লিউকে ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ম্যানস্লটার (নরহত্যা) ও অপহরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন। লিউয়ের এই অমানবিক কর্মকাণ্ডের শিকার ৭০ বছর বয়সী শুলাই ওয়াংয়ের মরদেহ উদ্ধারের পর চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে আসে এই বিভীষিকাময় অধ্যায়।

২০২৪ সালের মার্চ মাসে অকল্যান্ডের গালফ হারবার এলাকায় ধানের বস্তায় মোড়ানো অবস্থায় শুলাই ওয়াংয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে জানা যায়, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে চীনের হাইনান দ্বীপ থেকে নিউজিল্যান্ডে এসে লিউয়ের পারিবারিক আবাসন ‘দ্য আর্ক’-এ ওঠেন ওয়াং। সেখানে লিউয়ের অন্যান্য নারী অনুসারীরাও থাকতেন, যারা তাকে ‘প্রভু’ বা ‘মাস্টার’ বলে সম্বোধন করতেন।

আদালতে উঠে আসে, ওই নারীরা লিউয়ের কঠোর নিয়ন্ত্রণে দাসত্বের মতো জীবনযাপন করতে বাধ্য হতেন। বৃদ্ধা ওয়াং সেই কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হিমশিম খেতেন। ঘটনার দিন পালানোর চেষ্টা করলে তাকে ধরে এনে আটকে রাখা হয় এবং ওই দিনই তার মৃত্যু হয়। মরদেহ গুম করতে লিউ তার সন্তানদেরও সঙ্গে নিয়েছিলেন বলে প্রমাণ মিলেছে। ধানের বস্তার ক্রয়ের সূত্র ধরে পুলিশ অপরাধীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

কাইশিয়াও লিউ একসময় চীনের একটি ট্যালেন্ট শো-তে অংশ নিয়েছিলেন। নিউজিল্যান্ডে এসে তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ধর্মীয় আলোচনার আড়ালে অনুসারী জোগাড় করতেন। আদালত তার স্ত্রী লানিউ শিয়াওকে প্রায় আট বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া লিউয়ের বাবা-মায়ের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে। রায় প্রদানের সময় বিচারক ম্যাথিউ ডাউনস বলেন, লিউ কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি এবং বৃদ্ধা ওয়াংয়ের মৃত্যুর জন্য তিনিই সম্পূর্ণ দায়ী।

Leave a Comment