কানাডার টরন্টো থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান বাণিজ্য বিরোধে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের আঘাত হানার কৌশল নিয়ে কাজ করছে কানাডা। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডসহ শীর্ষস্থানীয় নেতারা জানিয়েছেন, মার্কিন শুল্ক হুমকির মোকাবিলায় কানাডা শুধু বসে থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্র কানাডার রপ্তানি পণ্যের সবচেয়ে বড় বাজার হওয়ায় এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য যুদ্ধ উভয় দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পালটা চাপ সৃষ্টি করতে ইস্পাত, দুগ্ধজাত পণ্য, ইলেকট্রনিক্স এবং কৃষিসামগ্রীর ওপর সমপরিমাণ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা চলছে। এছাড়া কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ আমদানির প্রধান উৎস হওয়ায় জ্বালানি খাতকে চাপের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টিও খোলা রাখা হয়েছে। অন্টারিওর প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ড সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে অবমূল্যায়ন করছে, যা তাদের বড় ভুল।
কানাডার হাতে থাকা অন্যতম বড় অস্ত্র হলো খনিজ সম্পদ, যার মধ্যে রয়েছে পটাশ, লিথিয়াম, নিকেল এবং গ্রাফাইট। ফোর্ড হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অন্টারিও থেকে এক দানা বালিও যুক্তরাষ্ট্র পাবে না যদি তারা বাণিজ্য নীতি পরিবর্তন না করে। এর আগে অ্যালকোহল জাতীয় পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে কানাডা মার্কিন মদ্যপানীয় শিল্পে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি করতে সক্ষম হয়েছিল, যা এখনো ১১টি প্রদেশে কার্যকর রয়েছে।
এছাড়া কানাডীয়দের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণ কমিয়ে দেওয়ার ফলে মার্কিন অর্থনীতিতে কোটি কোটি ডলারের রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে। কার্নি সতর্ক করে বলেছেন, কানাডা থেকে অটোমোবাইল যন্ত্রাংশের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হলে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান, ওহাইও এবং অ্যালাবামার শ্রমিকরা সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।