অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অবস্থিত ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক প্রাণিজগতের বিবর্তনের ধারায় এক অভিনব ও গোপন ‘মহাসড়ক’ বা প্যাটার্ন খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণাটিতে ৫ হাজার ৮০০টিরও বেশি প্রাণীর জিনোম বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বিবর্তন প্রক্রিয়া কোনো বিচ্ছিন্ন বা এলোমেলো ঘটনা নয়, বরং এটি নির্দিষ্ট কিছু স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় পথের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এই আবিষ্কারটি প্রাণী বিবর্তনের ৬০ কোটি বছরের ইতিহাস বুঝতে এবং ভবিষ্যতের বিবর্তনীয় গতিপথ অনুমানে সহায়তা করবে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।
বিজ্ঞান সাময়িকী সায়েন্স অ্যাডভান্সেস-এ প্রকাশিত এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ওলেগ সিমাকভ। তিনি জানান, বিবর্তনের এই নিয়মগুলো কেবল অতীতের ইতিহাস জানতেই সাহায্য করে না, বরং এটি আমাদের বুঝতে শেখায় যে ভবিষ্যতে জিনোমের বিবর্তন কোন দিকে যেতে পারে। এই তথ্য প্রাণীর জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষক দলটি মনে করছে।
বিবর্তনের এই গোপন মহাসড়কগুলো মূলত ক্রোমোজোমের বিন্যাস বা কাঠামোর সাথে যুক্ত। গবেষকরা জানিয়েছেন, প্রাণীর ক্রোমোজোম বারবার সংযুক্ত হয়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়েছে এবং নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ‘ফিউশন-উইথ-মিক্সিং’ নামক এক বিশেষ পদ্ধতি কাজ করে, যেখানে দুটি ক্রোমোজোম যুক্ত হয়ে তাদের জিনগুলো মিশ্রিত করে ফেলে। এটি একটি অপরিবর্তনীয় প্রক্রিয়া, অর্থাৎ একবার জিন মিশ্রিত হয়ে গেলে তা আর আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারে না।
গবেষক ড্যারিন শুলজ এবং তার দল ১৯টি প্রাণী পর্বের ৪ হাজার ৪৫৪টি প্রজাতির ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণ সম্পন্ন করেছেন। এটি প্রাণিজগতে এ যাবৎকালের বৃহত্তম জিনোম তুলনা। গবেষণায় দেখা গেছে, মশা, স্পঞ্জ এবং কেঁচোর মতো প্রাণীদের জিনোম কাঠামো অত্যন্ত স্বতন্ত্র এবং তারা বিবর্তনের এক একটি নির্দিষ্ট পথে চলে। এই নতুন আবিষ্কৃত মানচিত্রের মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা এখন অদূর ভবিষ্যতে বিবর্তন কীভাবে হতে পারে, তা সিমুলেশনের মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।