নাইজেরিয়ার জামফারা ও ওয়ো রাজ্যে সশস্ত্র ডাকাতদের হামলায় বিপর্যস্ত জনজীবন। ফাতেমা নামে এক ভুক্তভোগী নারী জানান, গ্রামে সশস্ত্র বন্দুকধারীদের হামলার সময় যারা দৌড়ানোর চেষ্টা করেছেন, তাদের সরাসরি গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। কেউ ঘরে আশ্রয় নিলে সেই ঘরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
ফাতেমা জানান, জামফারার বিয়া বুকি গ্রামে জুন মাসে প্রায় ৭০ জন গ্রামবাসী নিহত হয়েছেন। এই সহিংসতায় তার স্বামী এবং স্বামীর ছয় ভাই প্রাণ হারিয়েছেন। জাতিসংঘের তথ্যমতে, উত্তর-পশ্চিম নাইজেরিয়া থেকে প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই এখন গাসাউ শহরের অস্থায়ী ক্যাম্পে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
নাইজেরিয়ার এই অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে ‘ব্যান্ডিট’ বা ডাকাত হিসেবে পরিচিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো মোটরসাইকেলে চড়ে হামলা চালায়। তারা মূলত মুক্তিপণের জন্য অপহরণ, লুটপাট ও চাঁদাবাজি করে। এছাড়া কৃষকদের জমি ব্যবহারের ওপরও তারা অবৈধ কর আরোপ করে।
সহিংসতা এখন উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ দিকেও ছড়িয়ে পড়ছে। মে মাসে ওয়ো রাজ্যের তিনটি স্কুলে হামলা চালিয়ে ৩৯ শিশুসহ ৪৬ জনকে অপহরণ করা হয়। দীর্ঘ ৫৫ দিন পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এই ঘটনার পর অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
নাইজেরিয়ার বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। একদিকে উত্তর-পশ্চিমে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য, অন্যদিকে উত্তর-পূর্বে ইসলামপন্থী বিদ্রোহ ও অন্যান্য অঞ্চলে জাতিগত সংঘাত বিদ্যমান। নিরাপত্তা বাহিনীর সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সরকার নিরাপত্তা বাজেট বাড়ালেও এবং নতুন সৈন্য নিয়োগের পরিকল্পনা করলেও স্থানীয়রা নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন। অনেক গ্রাম এখন জনশূন্য হয়ে পড়েছে। ফাতেমা ও তার মতো অসংখ্য মানুষ বাড়ি ফেরার স্বপ্ন দেখলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে তা অসম্ভব হয়ে পড়েছে।