১৯০ বছরের পুরনো ডিএনএ বিশ্লেষণে নতুন প্যাঙ্গোলিন প্রজাতির সন্ধান

August 27, 2026

নেপাল ও ভারতের উত্তরাঞ্চলে বসবাসকারী প্যাঙ্গোলিনের একটি নতুন প্রজাতি শনাক্ত করেছেন গবেষকরা। ফিল্ড মিউজিয়ামের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এতদিন যে প্যাঙ্গোলিনকে সাধারণ প্রজাতি হিসেবে গণ্য করা হতো, তা আসলে আলাদা একটি প্রজাতি। লন্ডনের প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘরে ১৮৩৬ সালে সংগৃহীত প্যাঙ্গোলিনের একটি নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করে গবেষকরা এই রহস্য উন্মোচন করেছেন।

গবেষকদের মতে, নতুন শনাক্ত হওয়া এই প্রজাতির নাম ‘ম্যানিস অরিটা’ (Manis aurita)। এতদিন প্যাঙ্গোলিনটিকে চীনা প্যাঙ্গোলিনের একটি উপ-প্রজাতি হিসেবে মনে করা হতো। কিন্তু আধুনিক জিনতাত্ত্বিক পরীক্ষা ও শারীরিক গঠনের তুলনামূলক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হিমালয়ের পাদদেশের এই প্যাঙ্গোলিনগুলো চীনা প্যাঙ্গোলিনের চেয়ে ভিন্ন। এগুলোর আকার বড়, লেজ দীর্ঘ এবং কান তুলনামূলক ছোট।

গবেষণার গুরুত্ব

প্যাঙ্গোলিন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পাচার হওয়া স্তন্যপায়ী প্রাণীদের একটি। এদের আইশ অবৈধ বাজারে উচ্চমূল্যে কেনাবেচা হয়। গবেষক অ্যান্ডারসন ফেইজো জানান, কোনো প্রাণীকে রক্ষা করতে হলে আগে তার সঠিক পরিচয় জানা জরুরি। নতুন এই প্রজাতি শনাক্ত হওয়ায় এখন পাচার হওয়া আইশের ডিএনএ পরীক্ষা করে বোঝা যাবে সেগুলো কোন অঞ্চলের এবং কোন প্রজাতির। এটি অবৈধ পাচার রোধে ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে কার্যকর সহায়তা করবে।

দীর্ঘ প্রচেষ্টার ফল

এই গবেষণায় ফিল্ড মিউজিয়াম, নেপাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গবেষকরা যুক্ত ছিলেন। পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে পরিচালিত এই কাজের প্রধান গবেষক নারায়ণ কোজু বলেন, দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা এবং জাদুঘরে সংরক্ষিত পুরনো নমুনা কীভাবে বর্তমান সময়ের বন্যপ্রাণী রক্ষায় ভূমিকা রাখতে পারে, এটি তার বড় প্রমাণ।

সংরক্ষণ কৌশল

গবেষকরা জানান, হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত নেপাল ও ভারতের বিভিন্ন এলাকায় এই প্যাঙ্গোলিনগুলোর নিজস্ব ভৌগোলিক সীমানা রয়েছে। ভবিষ্যতে প্যাঙ্গোলিন পুনর্বাসন কর্মসূচিতে এই তথ্যগুলো ব্যবহার করা হবে যাতে সঠিক প্রজাতির প্রাণীকে সঠিক পরিবেশে অবমুক্ত করা যায়। জাদুঘরের প্রাচীন সংগৃহীত নমুনাগুলো বর্তমান ও ভবিষ্যতের বিজ্ঞানীদের কাছে নতুন প্রজাতি শনাক্ত করার গুরুত্বপূর্ণ আকর হিসেবে কাজ করছে।

Leave a Comment