যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ইরান বিষয়ক একের পর এক পোস্টের মাধ্যমে গত ছয় মাসের যুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেছেন। ইরান এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ সামরিক অভিযানের ছয় মাস পূর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিশ্লেষণটি প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।
ট্রাম্পের সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট বিশ্লেষণ
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত ট্রাম্প ট্রুথ সোশালে অন্তত ৪,১৮৯টি পোস্ট দিয়েছেন। এর মধ্যে ইরানকে নিয়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে ৩১৯টি, যা তার মোট পোস্টের একটি বড় অংশ। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুদ্ধ ঘোষণা থেকে শুরু করে সামরিক অভিযানের দাবি, শান্তি চুক্তি এবং পরবর্তীতে তা ভেঙে নতুন করে উত্তেজনার প্রতিটি ধাপ তিনি নিজের প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করেছেন।
যুদ্ধের শুরুর দিকে ট্রাম্প ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসার জন্য চাপ দিয়েছিলেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি সেন্টকম (CENTCOM) ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করার ঘোষণা দেওয়ার পরপরই ট্রাম্প ভিডিও বার্তার মাধ্যমে সামরিক অভিযানের তথ্য প্রচার করেন। তিনি তৎকালীন ইরানি নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেইয়ের মৃত্যুর ঘোষণা দিয়ে দাবি করেন, ইরান পুরোপুরি কোণঠাসা হয়ে পড়েছে।
হরমোজ প্রণালী ও ব্লকেড
যুদ্ধের বড় একটি সময়জুড়ে হরমোজ প্রণালীতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-ব্লকেড বজায় ছিল, যাকে ট্রাম্প ‘ওয়াল অফ স্টিল’ হিসেবে অভিহিত করেন। বারবার যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং তা ভেঙে ফেলার নেপথ্যে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন দেশের অনুরোধ ও চাপের কথা তিনি তার পোস্টে উল্লেখ করেছেন। জুনের মাঝামাঝি সময়ে একটি শান্তি চুক্তির কথা বললেও তা বেশিদিন টেকেনি।
ট্রাম্পের পোস্টের ভাষা
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ট্রাম্প তার পোস্টে ইরান বা এর পারমাণবিক কর্মসূচির চেয়েও নিজের নাম এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজের পরিচয়কে বেশিবার উল্লেখ করেছেন। যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রায় প্রতিটি পোস্টে তিনি নিজস্ব সামরিক সাফল্য দাবি করেছেন এবং প্রায়শই ন্যাটো ও বিভিন্ন মিত্র দেশগুলোর সমালোচনা করেছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
আগস্ট মাসে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে তিনি ইরান যুদ্ধে জয়ী হয়েছেন। বর্তমানে এই যুদ্ধ মূলত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েনে রূপ নিয়েছে। তিনি ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং হরমোজ প্রণালীকে মার্কিন ‘অঞ্চল’ হিসেবে ঘোষণা করার হুমকি দিয়েছেন। ছয় মাসের এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রতিটি বাঁক ট্রাম্পের নিজস্ব শব্দে রেকর্ড হয়ে আছে তার সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে।