বিশ্বজুড়ে বর্তমানে স্মার্ট টিভির জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। ধারণা করা হচ্ছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ বিশ্বের ৫০ শতাংশেরও বেশি পরিবার স্মার্ট টিভি ব্যবহার করবে, যা ২০২০ সালে ছিল ৩৪ শতাংশ। ভয়েস অ্যাসিস্ট্যান্ট, নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট এবং ইন্টারনেট সুবিধার কারণে স্মার্ট টিভি মানুষের কাছে পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। তবে এই আধুনিক স্মার্ট টিভির অপারেটিং সিস্টেম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত স্টোরেজ থাকে না, যা অনেক ব্যবহারকারীর কাছেই অজানা।
সাধারণত নতুন কেনা স্মার্ট টিভিতে মাত্র ৮ জিবি স্টোরেজ থাকে। এর একটি বিশাল অংশ দখল করে রাখে টিভির নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেম। উদাহরণস্বরূপ, স্যামসাং স্মার্ট টিভির ক্ষেত্রে সিস্টেম ফাইলগুলোই মোট স্টোরেজের প্রায় ২০ শতাংশ জায়গা দখল করে নেয়।
স্টোরেজ কেন দ্রুত পূর্ণ হয়
অপারেটিং সিস্টেম ছাড়াও আরও বেশ কিছু কারণে স্মার্ট টিভির স্টোরেজ দ্রুত ফুরিয়ে যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ বা ‘ব্লোটওয়্যার’। কারখানা থেকেই ইউটিউব, নেটফ্লিক্স বা প্রাইম ভিডিওর মতো অ্যাপগুলো টিভিতে যুক্ত থাকে। এর বাইরে ব্যবহারকারীর নিজস্ব ইনস্টল করা অ্যাপগুলো অবশিষ্ট জায়গাটুকু দখল করে। এছাড়া অ্যাপের ক্যাশ মেমোরি বা সাময়িক ডেটা স্টোরেজ পূর্ণ করার আরেকটি বড় কারণ। নেটফ্লিক্সের মতো অ্যাপগুলো দেখার সুবিধার জন্য থাম্বনেইলসহ বিভিন্ন ডেটা ক্যাশ হিসেবে জমিয়ে রাখে, যা সময়ের সাথে সাথে বাড়তে থাকে।
স্টোরেজ খালি করার উপায়
টিভির মেমোরি খালি করার প্রথম ধাপ হলো অ্যাপের ক্যাশ এবং সাময়িক ডেটা মুছে ফেলা। টিভির সেটিংস থেকে এটি করা সম্ভব, তবে এটি স্থায়ী সমাধান নয়। স্থায়ী সমাধানের জন্য অব্যবহৃত অ্যাপগুলো আনইনস্টল করা প্রয়োজন। বিশেষ করে যে অ্যাপগুলো গত তিন মাসে ব্যবহার করা হয়নি, সেগুলো মুছে ফেলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেক ক্ষেত্রে নির্মাতারা প্রি-ইনস্টল করা অ্যাপ মুছে ফেলার সুযোগ দেন না।
অন্যান্য উপায়
যদি ইন্টারনাল স্টোরেজ নিয়ে সমস্যা কাটানো সম্ভব না হয়, তবে ফায়ার টিভি স্টিক, রোকু বা গুগল টিভি স্ট্রিমারের মতো আলাদা স্ট্রিমিং ডিভাইস ব্যবহার করা একটি কার্যকর বিকল্প। এই ডিভাইসগুলোর নিজস্ব স্টোরেজ, অপারেটিং সিস্টেম এবং অ্যাপ ইকোসিস্টেম থাকে, যা টিভির ওপর চাপ কমায় এবং দেখার অভিজ্ঞতাকে সহজতর করে তোলে।