যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসে লিঞ্চে ক্ল্যান্সির পাঁচ সপ্তাহব্যাপী চাঞ্চল্যকর খুনের মামলার রায় নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। ১২ সদস্যের জুরি প্যানেল টানা দুই দিন বিচারক উইলিয়াম সুলিভানকে জানিয়েছেন যে, তারা কোনো সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না। বিচারক তাদের পুনরায় আলোচনার নির্দেশ দিলেও অচলাবস্থা কাটেনি। এর ফলে মামলাটি মিসট্রায়াল বা বিচার বাতিল হওয়ার পথে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
৩৬ বছর বয়সী সাবেক নার্স লিঞ্চে ক্ল্যান্সি ২০২৩ সালে তার তিন সন্তানকে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেছেন। তবে তার আইনজীবীদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি পোস্টপার্টাম সাইকোসিসে ভুগছিলেন, যার ফলে তিনি ভালো-মন্দের পার্থক্য করতে অক্ষম ছিলেন। অন্যদিকে সরকারি কৌঁসুলিদের দাবি, ক্ল্যান্সি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।
জুরি প্যানেলের সামনে এখন কয়েকটি আইনি পথ খোলা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নির্দোষ ঘোষণা, মানসিকভাবে অসুস্থতার কারণে নির্দোষ সাব্যস্ত করা, প্রথম বা দ্বিতীয় ডিগ্রির হত্যা এবং নরহত্যার দায়ে দণ্ড প্রদান। ম্যাসাচুসেটসের আইন অনুযায়ী, যেকোনো রায়ের জন্য জুরিদের সর্বসম্মত হতে হয়।
বিচারক সুলিভান বর্তমানে জুরিদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছেন। যদি তারা কোনো সিদ্ধান্তে আসতে ব্যর্থ হন, তবে বিচারক ‘মিসট্রায়াল’ বা বিচার বাতিল ঘোষণা করতে পারেন। এর অর্থ হবে বিচারপ্রক্রিয়া কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হওয়া। এমনটি ঘটলে রাষ্ট্রপক্ষ পুনরায় নতুন জুরি নিয়ে বিচার শুরু করতে পারে অথবা কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে। তবে রায় যাই হোক, ক্ল্যান্সি আপাতত মানসিক স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই বন্দি থাকবেন।
মামলার মূল বিতর্ক দাঁড়িয়ে আছে ক্ল্যান্সির মানসিক অবস্থা নিয়ে। তার আইনজীবীদের দাবি, তিনি হ্যালুসিনেশনের কারণে অপরাধ করতে বাধ্য হয়েছিলেন। বিপরীতে কৌঁসুলিরা মনে করেন, ক্ল্যান্সি তার কাজের পরিণাম সম্পর্কে সচেতন ছিলেন। জুরিরা যদি প্রথম ডিগ্রি হত্যার পক্ষে রায় দেন, তবে তার সাজা হবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। অন্যথায়, মানসিকভাবে অসুস্থতার কারণে নির্দোষ ঘোষণা করা হলে তাকে হাসপাতালের মানসিক ওয়ার্ডে রাখা হতে পারে।