মাল্টার রাজধানী ভ্যালেত্তার আদালতে সাংবাদিক ড্যাফনি কারুয়ানা গালিজিয়াকে হত্যার পরিকল্পনার দায়ে অভিযুক্ত ব্যবসায়ী ইয়র্গেন ফেনেককে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে। জুরি বোর্ডের সদস্যরা আট ঘণ্টা আলোচনার পর ৮-১ ভোটে ৪৪ বছর বয়সী এই ধনকুবেরকে নির্দোষ ঘোষণা করেন। ২০১৭ সালে গাড়ি বোমা হামলায় সাংবাদিক ড্যাফনি নিহতের ঘটনায় ফেনেকের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ আনা হয়েছিল, যা দেশটির বিচারিক প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে বিবেচিত।
মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত ফেনেকের পরিবারের সদস্যরা উল্লাস প্রকাশ করেন, অন্যদিকে ড্যাফনির পরিবার এই রায়ে গভীর হতাশা ও কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনার নয় বছর পার হলেও ন্যায়বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে ড্যাফনির পরিবার এক বিবৃতিতে বলেছে, রাষ্ট্রের ব্যর্থতার কারণে সাংবাদিক ড্যাফনিকে জীবন দিতে হয়েছে এবং এই দায় রাষ্ট্র এড়াতে পারে না।
ড্যাফনি কারুয়ানা গালিজিয়া তার সাহসী সাংবাদিকতা ও দুর্নীতির অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ছিলেন। ২০১৬ সালে পানামা পেপারস কেলেঙ্কারি উন্মোচনে তার ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। এর মাধ্যমে তিনি মাল্টার সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তথ্য ফাঁস করেছিলেন।
শুনানির সময় কৌঁসুলিরা দাবি করেছিলেন, নিজের সম্পর্কে গোপন তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে ফেনেক সাংবাদিক ড্যাফনিকে হত্যার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে ফেনেক শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। বরং তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ কিথ সেমব্রির দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলেন।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২২ সালে ড্যাফনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে জর্জ এবং আলফ্রেড ডিগিওর্গিও নামের দুই ভাইকে ৪০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ২০১৫ সালে বোমা সরবরাহকারী হিসেবে রবার্ট আজিয়াস এবং জেমি ভেলাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাংবাদিক ড্যাফনি হত্যার ঘটনার পর মাল্টাজুড়ে ব্যাপক জনবিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, যার প্রেক্ষিতে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জোসেফ মাসকট পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলেন।