যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসের প্লাইমাউথ আদালতে নিজের তিন সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত লিন্ডসে ক্ল্যানসির বিচার প্রক্রিয়াটি শেষ পর্যন্ত এক জটিল অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। বিচারক শুক্রবার এই মামলায় মিসট্রায়াল বা বিচার বাতিলের ঘোষণা দিয়েছেন, কারণ ৪০ ঘণ্টা আলোচনার পরেও জুরি সদস্যরা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছেন। লিন্ডসে ক্ল্যানসিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিচারিক প্রক্রিয়াটি দেশটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে ফেলেছে—কেউ তাকে মানসিকভাবে অসুস্থ ‘ভুক্তভোগী’ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়ানো ‘অপরাধী’ হিসেবেই দেখছেন।
৩৬ বছর বয়সী লিন্ডসে ক্ল্যানসি পেশায় একজন সেবিকা। তার আইনজীবীরা দাবি করেছেন, তিনি ‘পোস্টপার্টাম সাইকোসিস’ বা সন্তান প্রসব পরবর্তী মানসিক বৈকল্যে আক্রান্ত ছিলেন। এই অবস্থার কারণে তিনি নিজের সন্তানদের শ্বাসরোধ করে হত্যার সময় মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন না বলে তাদের যুক্তি। অন্যদিকে, সরকারি কৌঁসুলিরা এই হত্যাকাণ্ডকে একটি পূর্বপরিকল্পিত ও ইচ্ছাকৃত ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করে বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
বিচার চলাকালীন সাত সপ্তাহজুড়ে বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল বিতর্ক দেখা দিয়েছে। আদালতের বাইরে অনেক নারীকে গোলাপী পোশাক পরে ক্ল্যানসির সমর্থনে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। তাদের দাবি, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা তাকে পর্যাপ্ত সহায়তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু এর বিপরীত মতও জোরালো। সমালোচকদের মতে, মা হওয়া মানেই যে মানসিক অসুস্থতার অজুহাতে অপরাধের ছাড় পাওয়া উচিত নয়, তা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছেন তারা।
আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন দশেরও বেশি বিশেষজ্ঞ সাক্ষী। এর মধ্যে জেনিফার টাফটস জানিয়েছেন, ক্ল্যানসির মধ্যে সাইকোসিসের কোনো লক্ষণ তিনি দেখেননি। আবার মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আব্রাম ম্যাকের সাক্ষ্য বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিচার প্রক্রিয়া ও সবশেষে মিসট্রায়ালের ঘোষণার পর ক্ল্যানসির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মাসের শেষদিকে পরবর্তী শুনানির মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে, প্রসিকিউশন নতুন করে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করবে নাকি কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর চেষ্টা করবে।