জাপানের কিয়োটো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা পৃথিবীকে একটি বিশাল ডার্ক ম্যাটার ডিটেক্টর হিসেবে ব্যবহার করে রহস্যময় কিছু সংকেত শনাক্ত করেছেন। গবেষণার অন্যতম লেখক আৎসুইশি তারুইয়া জানিয়েছেন, পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র এবং বায়ুমণ্ডলকে কাজে লাগিয়ে আল্ট্রা-লাইট অ্যাক্সিয়ন ও ডার্ক ফোটনের মতো অতি ক্ষুদ্র ডার্ক ম্যাটার কণা অনুসন্ধানে তারা এই নতুন পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য হলো ডার্ক ম্যাটার, যা মহাবিশ্বের মোট শক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ দখল করে আছে বলে ধারণা করা হয়।
গবেষক দলটির ভাষ্যমতে, পৃথিবীর উপরিভাগ এবং আয়নোস্ফিয়ারের মধ্যবর্তী অঞ্চলটি একটি বিশাল প্রাকৃতিক রেজোনেটর হিসেবে কাজ করে, যা তড়িৎচৌম্বকীয় তরঙ্গকে শক্তিশালী করতে সক্ষম। ল্যাবরেটরির ছোট চুম্বক দিয়ে ডার্ক ম্যাটার শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় তারা এই প্রাকৃতিক পরিবেশকে গবেষণার বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন।
গবেষণার জন্য বিজ্ঞানীরা ব্রিটিশ জিওলজিক্যাল সার্ভের এস্কডেলমুইর অবজারভেটরি থেকে সংগৃহীত ২০১২ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের ভূ-চৌম্বকীয় ডেটা বিশ্লেষণ করেছেন। নতুন তাত্ত্বিক কাঠামোর মাধ্যমে তারা ৮ হার্জের কাছাকাছি সংকেত বৃদ্ধিতে সক্ষম হয়েছেন এবং ৩০ হার্জ পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস তৈরি করেছেন।
বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, অ্যাক্সিয়ন থেকে আসা সংকেত ভৌগোলিক অবস্থানের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়, যা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, ডার্ক ফোটনের সংকেত বিশ্বজুড়ে প্রায় একই মাত্রার হয়ে থাকে।
এই পরীক্ষায় ডার্ক ফোটনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কৌতুহল উদ্দীপক সংকেত পাওয়া গেছে যা ডার্ক ম্যাটারের উৎস হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এগুলোর উৎস এখনো নিশ্চিত নয় এবং এ বিষয়ে আরও নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।