হৃদরোগ ও কিডনি রোগের মরণচক্র ভাঙতে নতুন নির্দেশিকা

September 6, 2026

ইউরোপের দেশগুলোতে হৃদরোগ এবং দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগের (সিকেডি) মধ্যকার জটিল সম্পর্ক মোকাবিলায় প্রথমবারের মতো নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে ইউরোপীয় সোসাইটি অব কার্ডিওলজি। ইউরোপীয় রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের সহযোগিতায় তৈরি এই সুপারিশমালা ইউরোপিয়ান হার্ট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি ইএসসি কংগ্রেস ২০২৬-এ উপস্থাপন করা হয়।

দীর্ঘমেয়াদী কিডনি রোগ হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে কিডনির গঠন বা কার্যক্ষমতায় অন্তত তিন মাস ধরে অস্বাভাবিকতা বজায় থাকে। ইউরোপে প্রায় ১০ কোটি মানুষ এই সমস্যায় ভুগছেন, যা তাদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টার গ্রোনিংজেনের অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর এবং টাস্ক ফোর্সের চেয়ার কেভিন ড্যামম্যান বলেন, প্রতিটি রোগই রোগীর জীবনকাল কমিয়ে দেয়। সিকেডি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায়, আবার হৃদরোগও কিডনির কার্যকারিতা দ্রুত কমিয়ে দেয়। তবে আশার কথা হলো, গত কয়েক বছরে বেশ কিছু সহজ চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবিত হয়েছে যা এই দুই রোগের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

নতুন নির্দেশিকায় ‘স্ট্যাম্প অন সিকেডি’ (STAMP on CKD) নামক একটি কৌশলের কথা বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো—স্ক্রিনিং বা পরীক্ষা, ট্রায়াজ বা অগ্রাধিকার নির্ধারণ, ঝুঁকি মোকাবিলা, হৃদরোগের ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, হৃদরোগে আক্রান্ত প্রতিটি রোগীরই কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষার জন্য রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা উচিত। এছাড়া ঝুঁকি থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে দ্রুত ওষুধের প্রয়োগ এবং জীবনযাত্রার পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের অধ্যাপক উইলিয়াম হেরিংটন জানান, সিকেডি এবং হৃদরোগের জটিলতা এড়াতে কার্ডিওলজিস্ট এবং নেফ্রোলজিস্টদের মধ্যে কার্যকর যোগাযোগ প্রয়োজন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব। রোগীদের রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে এবং তাদের চিকিৎসায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে একটি বিশেষ সংস্করণও তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা চিকিৎসকের সাথে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

Leave a Comment