ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তায় আনাক ক্রাকাতোয়া আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাতের ফলে সৃষ্ট দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে প্রায় ৩ লাখ ৪০ হাজার যাত্রী আটকা পড়েছেন। অগ্নুৎপাতের ফলে প্রায় ৩ হাজার ফ্লাইট বিঘ্নিত হয়েছে এবং বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম টানা দ্বিতীয় দিনের মতো স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দেশটির পরিবহন মন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি। জরুরি ভিত্তিতে বিমান চলাচল বন্ধ রাখায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
জাকার্তার সুকর্ণ-হাত্তা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বায়ুমণ্ডলে আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের উপস্থিতি থাকায় ফ্লাইট চালুর সময় পিছিয়ে আগামী সোমবার রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। একইসাথে বেসামরিক ও সামরিক ফ্লাইটের জন্য ব্যবহৃত হালিম পেরদানাকুসুমা বিমানবন্দরও একই সময় পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
যাত্রীদের দুর্ভোগ
বিমানবন্দরগুলোতে হাজার হাজার যাত্রীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেকে ফ্লাইটের তথ্যের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। ভুক্তভোগী যাত্রী ফিন্না জানান, বারবার ফ্লাইট সময়সূচি পরিবর্তনের কারণে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। অনেক যাত্রী বিকল্প উপায়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন। মালয়েশিয়ার এক দম্পতি জানান, ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তাদের হাতে থাকা অর্থ ও সময় ফুরিয়ে আসছে, যা তাদের জন্য নতুন সংকটের জন্ম দিয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ
ইন্দোনেশিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা সতর্ক করেছে যে, আগামী দিনগুলোতে আগ্নেয়গিরিটির আরও সক্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপের দিকে আগ্নেয়গিরির ছাই ১৫ হাজার মিটার পর্যন্ত উচ্চতায় ছড়িয়ে পড়েছে। পরিবহন মন্ত্রী ডুডি পুরওয়াগান্ধি জানিয়েছেন, আবহাওয়া পরিস্থিতি অনিশ্চিত হওয়ায় কবে নাগাদ বিমান চলাচল স্বাভাবিক হবে তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা
কর্তৃপক্ষ আগ্নেয়গিরির ৩ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যেকোনো ধরনের কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। সুন্দা প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকেও এই এলাকা এড়িয়ে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে কোনো সুনামি সতর্কতা নেই বলে নিশ্চিত করেছে প্রশাসন। ১৯ শতকের শেষের দিকে তৈরি হওয়া এই আগ্নেয়গিরিটি ২০১৮ সালে ভয়াবহ সুনামির কারণ ছিল, যেখানে ৪ শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।